হকি টুর্নামেন্টে নতুন কাণ্ড ঘটল পাক-ভারত ম্যাচে


মালয়েশিয়ার জোহর বারুতে অনুষ্ঠিত সুলতান অব জোহর কাপ হকি টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান।


খেলাধুলার ময়দানে এই দুই দেশের লড়াই বরাবরই চরম উত্তেজনার, তবে এবারের ম্যাচে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে মাঠের বাইরের আচরণে।


ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে উভয় দেশের জাতীয় সংগীত বেজে উঠলে স্বাভাবিকভাবেই চোখ ছিল খেলোয়াড়দের আচরণের দিকে। কারণ এর আগে, এশিয়া কাপ ক্রিকেটে হ্যান্ডশেক ঘিরে তৈরি হয়েছিল বড় ধরনের বিতর্ক। কিন্তু হকি মাঠে সেই দৃশ্য বদলে গেল—গান শেষ হতেই খেলোয়াড়রা পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানায়, হাত মেলায়, যা সাম্প্রতিক অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি।


গত কয়েক মাসে ভারত-পাকিস্তান খেলাধুলা সম্পর্ক বেশ কয়েকবার উত্তপ্ত হয়েছে। বিশেষ করে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামক সামরিক অভিযানের পরবর্তী সময়ে, ক্রিকেট এশিয়া কাপে ভারতীয় দল হ্যান্ডশেকে অংশ নেয়নি, এমনকি নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপেও ভারতীয় নারী দল পাকিস্তানিদের সঙ্গে করমর্দনে অংশ নেয়নি।


এই আচরণকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল ও আইসিসিতে অভিযোগ করে, যার জেরে দু’দেশের ক্রীড়া সম্পর্ক আরও সংকীর্ণ হয়।


ফুটবলেও উত্তেজনার কমতি ছিল না। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টে পাকিস্তান দলের ‘চা খাওয়ার’ উদযাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ শোরগোল পড়ে। তবে এসব উত্তেজনার বিপরীতে, হকি মাঠে দেখা গেল এক শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ চিত্র।


মাঠের খেলাতেও দুই দলের ফর্ম বেশ ভালো। ভারতীয় জুনিয়র হকি দল এখন পর্যন্ত অপরাজিত।


প্রথম ম্যাচে তারা গ্রেট ব্রিটেনকে ৩-২ গোলে হারায়, এরপর নিউজিল্যান্ডকে হারায় ৪-২ ব্যবধানে।


অন্যদিকে, পাকিস্তান দল টুর্নামেন্ট শুরু করে দারুণ জয় দিয়ে, মালয়েশিয়াকে হারায় ৭-১ গোলে,


তবে দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে যায় গ্রেট ব্রিটেনের কাছে। ভিন্ন বার্তা নিয়ে মাঠে নামে পাকিস্তান দল


পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ম্যাচের আগে জানিয়েছিলেন,


ভারত যদি আগের মতো হ্যান্ডশেক এড়িয়ে যায়, তাহলেও খেলোয়াড়দের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না। শুধু খেলার দিকেই মনোযোগ রাখতে হবে।


এমন প্রস্তুতির মধ্যেই হঠাৎ বদলে যাওয়া দৃশ্যটা কিছুটা চমক দিয়েই গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দুই দেশের খেলোয়াড়দের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ভবিষ্যতের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে একটি ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।


ভারত-পাকিস্তান মানেই যেন শুধু মাঠের লড়াই নয়—তার চেয়েও বড় রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। সেই বাস্তবতায় খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন সহনশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ কিছুটা হলেও আশাবাদের জায়গা তৈরি করে।


অন্তত হকি মাঠে এই বার্তা ছড়িয়ে গেছে—সম্মান ও সৌহার্দ্যই খেলার প্রকৃত সৌন্দর্য। আর সেটিই হতে পারে আসল ‘জয়’।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন