জাহিদুল হক জাহিদ, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের দিঘল কান্দি পশ্চিম পাড়া গ্রামে সিরাজগঞ্জ অনুসন্ধানী নামে একটি সাংবাদিক টিমের উপর হামলা চালায় ঐ এলাকার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী। এতে গুরুতর আহত হন সাংবাদিক টিমের দুই সদস্য। স্থানীয়দের সহায়তায় দুজনকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৪ ( অক্টোবর, শুক্রবার) বিকেল ৫ টার দিকে সিরাজগঞ্জ থানাধীন দিঘলকান্দি পশ্চিম পাড়ার জেনিন ডিস্ট্রিবিউশন এর পিছনে উপস্থিত হইয়া মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক সেবন এবং প্রকাশ্যে ক্রয় বিক্রয় করছে। এসব সংবাদ সংগ্রহ করিয়া ফেরার পথে দিঘল কান্দি পশ্চিম পাড়া মেইন রোডে তাদের উপর মাদক ব্যবসায়ী রকির নেতৃত্বে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায় কিশোরগ্যাং সহ মাদক ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির বলেন,সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌছে আমাকে ফোন করে ডেকেছিলেন,আমি সাথেই ছিলাম,তারা মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য সংগ্রহ করে ফিরে যাওয়ার পথে তাদের উপর মাদক ব্যবসায়ীরা হামলা চালায়, আমি নিজেও হামলার স্বীকার হয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শি একজন বলেন,এরা আগে থেকেই মাদক ব্যবসা করে,এদের কিছু বলতে গেলে তো সমস্যা, হেরোইন, ইয়াবা,গাজা সবই বিক্রি হয় রকির ছায়াতলে। ঐদিন সাংবাদিকদের উপর ১০-১২ জন লাঠি,বাটাম,রড,গাছের ডাল দিয়ে সাংবাদিকদের পেটায়,আমাদের সামনে, এক সাংবাদিকের নাক মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে,একজনকে টেনে হিচরে পাশের মাঠে নিয়ে গিয়ে মারতে থাকে। এতে দুজনের অবস্থা আশংকাজনক হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হামলাকারীরা মধ্যে ছিলেন মোঃ গোলজার এর ছেলে রকি ( হেরোইন ব্যবসায়ী), মৃত ওসমানের ছেলে ফকির চাঁন ( ইয়াবা ব্যবসায়ী) শাহ আলমের ছেলে হাসান ( কিশোরগ্যাং), মহিরের ছেলে মাসুম ( কিশোরগ্যাং),গফুরের ছেলে ইমন ( কিশোরগ্যাং) এবং গোলজারসহ ১০-১২ জন হামলা চালায়, অত্র এলাকায় তাদের মাদকের এককের আধিপত্য চলছে। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত, ক্ষমতা গেলেও অনেকের সহায়তায় তাদের ব্যবসা এখনোও চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন গনমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদও প্রকাশিত হয়। এই বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সোহাগ বলেন, আমরা আসামী ধরার চেষ্টা করছি। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার বিষয়ে মামলা হয়েছে, আসামীরা পলাতক রয়েছে,তবে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
