সিয়ামুর রশিদ, স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর)
দিনাজপুরে আজ মহানবমীর দিনে শারদীয় দুর্গোৎসব মুখরিত হয়ে উঠেছে ভক্ত-দর্শনার্থীদের ভিড়ে। ভোর থেকেই শহর ও গ্রামের পূজা মণ্ডপগুলোতে দেবীর অঞ্জলি দিতে মানুষের ঢল নামে। ঢাক-ঢোলের তালে তালে ভক্তরা মাতেন উৎসবের আনন্দে, চারপাশ জুড়ে সৃষ্টি হয় ভক্তিমুখর পরিবেশ।
দেবীর অঞ্জলি ও পূজা আয়োজন
মহানবমীর সকালে প্রতিটি মণ্ডপে চলে মহাশক্তির আরাধনা। ভক্তরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে দেবীর চরণে প্রণাম জানায় এবং সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে। পূজা শেষে প্রসাদ বিতরণে নারী-পুরুষ-শিশুরা অংশ নেন। সন্ধ্যা গড়াতেই মণ্ডপগুলো আলোকসজ্জা ও রঙিন সাজে হয়ে ওঠে মনোমুগ্ধকর।
ভক্তদের অনুভূতি
দিনাজপুর শহরের এক পূজা মণ্ডপে আসা ভক্ত আনন্দ রায় বলেন—
> “মহানবমীর এই দিনটা আমাদের কাছে আনন্দ আর ভক্তির মিলনমেলা। সারাবছর অপেক্ষা করি এই সময়টার জন্য। ঢাকের তালে তালে অঞ্জলি দিতে দিতে মনে হয় দেবী মা যেন সত্যিই আমাদের মাঝে বিরাজ করছেন। তবে একইসঙ্গে মনে পড়ছে কালকের দশমীর কথা, যেদিন বিদায় নিতে হবে মা দুর্গাকে।”
উৎসবে মিলনমেলা
দিনাজপুরের পূজা মণ্ডপগুলোতে শুধু হিন্দুধর্মাবলম্বীরাই নয়, ভিন্ন ধর্মের মানুষও এসে উৎসব উপভোগ করেছেন। এতে সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিশু-কিশোরদের জন্য আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভক্তদের জন্য থাকে বিশেষ প্রসাদের ব্যবস্থা।
নিরাপত্তা জোরদার
জেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় নিশ্চিন্তে উৎসব পালন করছেন ভক্তরা।
আগামীকাল বিজয়া দশমী
মহানবমীর উচ্ছ্বাসের মধ্যেও ভক্তদের মনে রয়েছে এক ধরনের বেদনা। কারণ আগামীকাল বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
দিনাজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান,
> “দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীর বিদায় নিলেও তিনি আমাদের হৃদয়ে থেকে যান শক্তি ও আশীর্বাদের প্রতীক হয়ে।”
উপসংহার
দিনাজপুরে মহানবমীর দিনে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাক-ঢোল, অঞ্জলি আর ভক্তদের মিলনমেলায় আজ ভরে উঠেছে পুরো জেলা। আর ভক্তরা এখন অপেক্ষায় কালকের দশমীর, যেখানে থাকবে আনন্দের সঙ্গে বিদায়ের সুরও।
.jpg)