সিয়ামুর রশিদ স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বেচ্ছাশ্রমের অসাধারণ অবদানের জন্য 'বেস্ট ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৫' অর্জন করেছেন দিনাজপুরের তরুণ সংগঠক জিলহজ্জ সরকার । আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ভলান্টিয়ারি সার্ভিস ওভারসিজ (ভিএসও) বাংলাদেশ তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করে।
"প্রতিটি অবদানই গুরুত্বপূর্ণ-এ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস-২০২৫ উদযাপন করা হয়। বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবককে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। বর্ণিল এই আয়োজনে জিলহজ্জ সরকার এর হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন। জাতীয় যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরমান হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ভিএসও বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ (আইডিএমডিএস) এবং ন্যাশনাল ইয়ুথ ফোরাম (এনওয়াইএফ)। অংশ নেয় গেইন, আইপাস বাংলাদেশ এবং ইসলামিক রিলিফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফর্বস এবং সুইডেন দূতাবাসের কর্মকর্তা নায়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রম। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ভিএসও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর খবিরুল হক কামাল।সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।
জিলহজ্জ সরকার ন্যাশনাল ইয়ুথ ফোরাম দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বর্তমানে দিনাজপুর জেলার দুই শতাধিক তরুণকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আধুনিক কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, পুষ্টিবাগান, শিশু অধিকার নিয়ে তাঁর দলের কাজ বিভাগজুড়ে ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে জিলহজ্জ বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমার একার নয়, এটা সেই প্রতিটি তরুণের, যারা নিজের সময়, স্বপ্ন আর শক্তি সমাজ পরিবর্তনের কাজে ব্যয় করতে ভালোবাসে।
তিনি আরও বলেন, ‘সিনেট ভবনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুরস্কার হাতে নেওয়ার মুহূর্তে মনে হয়েছে জন্মস্থান, ছেলেবেলার পথ আর ছোট ছোট সেবামূলক কাজগুলোই আমাকে এখানে এনেছে। এই অর্জন আমার কাছে আরও বড় দায়িত্ব—আরও বেশি মানুষের জন্য কাজ করা, আরও বেশি তরুণকে সঙ্গে নেওয়া এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও মানবিক ভবিষ্যৎ তৈরি করা।’
