মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ও অনৈতিক অবস্থায় ইব্রাহিম সরদার নামে এক শিবিরকর্মীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ীয়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
আটককৃত ইব্রাহিম সরদার চৌবাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ছাত্রশিবিরের একজন সক্রিয় কর্মী। অন্যদিকে, পরকীয়া জড়ানো ওই নারী একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী শফিকুল ইসলাম সরদারের স্ত্রী রানী খাতুন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকার সুযোগে ২ থেকে ৩ বছর ধরে তার স্ত্রী রানী খাতুনের সঙ্গে ইব্রাহিমের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা আঁচ করতে পেরে এর আগে একাধিকবার ছেলের পরিবারকে জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে ইব্রাহিম গোপনে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। বিষয়টি প্রবাসীর ভাই বিপ্লব হোসেন মোল্যা ও তার স্ত্রী টের পেয়ে যান। তারা অত্যন্ত কৌশলে ঘরের জানালা দিয়ে প্রবাসীকে সরাসরি ভিডিও কল দিয়ে তার স্ত্রীর এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দৃশ্য হাতেনাতে দেখান। এরপর স্থানীয় লোকজনকে ডেকে এনে দুজনকে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে বেঁধে রাখা হয়।
আটক রানী খাতুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্বামী দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় নিঃসঙ্গতার সুযোগে ইব্রাহিমের সঙ্গে তার গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা নিয়মিত মেলামেশা করতেন।
এদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে বিনোদপুর ইউনিয়নের শিবির সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাস গণমাধ্যমকে বলেন, “ইব্রাহিম শিবিরের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও সে আমাদের সংগঠনের একজন কর্মী। সে যতই আমাদের সংগঠনের ছেলে হোক না কেন, তার এমন ব্যক্তিগত অপকর্মের কোনো দায় সংগঠন নেবে না। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান জানান, আটক দুজনকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে প্রবাসীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।
