মিঠাপুকুর(রংপুর)প্রতিনিধি
বিপুল চন্দ্র বর্মন
মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩ জন।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত অ্যালকোহল (চোলাই মদ) পান করে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আরও তিনজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের সৃষ্টি করেছে।
নিহতরা হলেন উপজেলার কাফ্রীখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৫০), একই ইউনিয়নের বুজরুক ঝালই এলাকার মৃত মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫), সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মৃত কফুর উদ্দিনের ছেলে মো. সাজু মিয়া (৫৫) এবং মৃত সুলতান আলীর ছেলে মো. এরশাদ মিয়া (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (৩১ মে) রাতে বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি একসঙ্গে বসে নিষিদ্ধ অ্যালকোহল পান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষক্রিয়ার প্রভাবে রাতেই কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিবারের সদস্যরা তাদের দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে হুজুর আলী মারা যান। অপরদিকে ছাত্তার মিয়া কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার মরদেহ এনায়েতপুর সাতভেন্টি এলাকায় বোনের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সোমবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. সাজু মিয়া ও মো. এরশাদ মিয়ার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মাইদুল ইসলাম জানান, “তারা মূলত অতিরিক্ত ও বিষাক্ত মদ্যপানের কারণেই মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্ত এড়াতে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।”
খবর পেয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এরশাদ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
তদন্ত চলছে
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষাক্ত অ্যালকোহলের উৎস শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অবৈধ মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
