আবার নতুন পরিচয়ে আসছে এয়ারটেল


 মোবাইল অপারেটর ব্র্যান্ড এয়ারটেল আবারও নতুন পরিচয়ে ‘সার্কেল’ নামে যাত্রা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে রবি আজিয়াটা পিএলসি। সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ব্র্যান্ড ‘সার্কেল’ উন্মোচন করে কোম্পানিটি এ ঘোষণা দেয়। এর আগে ওয়ারিদ ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে মালিকানা কিনে এয়ারটেল নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে কোম্পানিটি। পরে রবির সঙ্গে একীভূত কোম্পানি হিসেবে কাজ শুরুর ঘোষণা দেয়।

এদিকে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এয়ারটেলের এই বিবর্তনে ব্র্যান্ডটির গ্রাহকদের সঙ্গে অপারেটরের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসছে না। ‘আসল সংযোগ, সবসময় সচল’—এই ব্র্যান্ড প্রতিশ্রুতি নিয়ে চালু হওয়া ‘সার্কেল’-এ এয়ারটেলের সব গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে এর গ্রাহকে পরিণত হবেন। তাদের বিদ্যমান ০১৬ নম্বর, সেবা প্যাকেজ ও ব্যালান্স আগের মতোই বহাল ও সচল থাকবে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, ওয়ালেট, লেনদেন ও গ্রাহকের তথ্যেও কোনো পরিবর্তন হবে না। তরুণ প্রজন্মের কথা বিবেচনায় রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ভবিষ্যতমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধার অঙ্গীকার নিয়ে আসছে সার্কেল, যা গ্রাহকদের আরও সাশ্রয়ী, আধুনিক ও ডিজিটালনির্ভর সেবা দেবে।


অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পরিবর্তিত ডিজিটাল বাস্তবতা এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান সংযুক্ত জীবনধারার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে ‘সার্কেল’। এতে এয়ারটেলের তারুণ্যকেন্দ্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও উন্নত ডিজিটাল সক্ষমতা, পরিবর্তিত সেবা এবং ভবিষ্যতমুখী নানা উদ্যোগ।


যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বের মানুষের মধ্যে আন্তঃসংযোগ ক্রমেই বাড়ছে। মানুষের বদলে যাওয়া এই যোগাযোগের ধরনকে বিবেচনায় রেখেই নতুন ব্র্যান্ডটি তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানি জানায়, নতুন ব্র্যান্ডটির মূল ভাবনা একটি সহজ বিশ্বাসকে ঘিরে। তা হচ্ছে—‘বাস্তব সংযোগই আমাদের আত্মপরিচয় গড়ে তোলে এবং আমাদের সত্যিকারের আপনজনদের খুঁজে পেতে সহায়তা করে।’


অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটা পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, ‘১৬ বছর ধরে এয়ারটেল বাংলাদেশের তরুণদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। সার্কেল সেই যাত্রারই পরবর্তী ধাপ। ব্র্যান্ডের নাম বদলালেও আমাদের মূল প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত থাকবে। সংযোগের ক্ষেত্রে যখন আমরা নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছি, তখন শুধু আরও বেশি মানুষকে যুক্ত করাই মূল বিষয় নয়; বরং সেই সংযোগগুলোকে আরও অর্থবহ করে তোলাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সার্কেল এয়ারটেলের সেই যাত্রার পরবর্তী বিবর্তন। এই নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এয়ারটেলের স্বতন্ত্র অবস্থানকে এগিয়ে নিতে পেরে আমরা গর্বিত।’


প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে অনুমতি পাওয়া ওয়ারিদ টেলিকম ইন্টারন্যাশনাল ২০০৭ সালের ১০ মে ৬১টি জেলায় মুঠোফোন নেটওয়ার্ক সেবা দেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। পরে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ওয়ারিদ ১ লাখ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ভারতের এয়ারটেল কোম্পানির কাছে ৭০ শতাংশ অংশীদারত্ব বিক্রি করে এবং এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড নাম ধারণ করে। একই বছরের ২০ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি এয়ারটেল নামে সেবাদান শুরু করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন