![]() |
| অভিনেতা আমর মোহামেদ আলী |
না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন মিসরের জনপ্রিয় অভিনেতা আমর মোহামেদ আলী। দীর্ঘদিন মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) রোগে ভোগার পর সোমবার (১৭ আগস্ট) ৫০ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোহামেদ আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিসরের অ্যাক্টরস সিন্ডিকেটের প্রধান আশরাফ জাকি। তিনি জানান, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন অভিনেতা। সাম্প্রতিক সময়ে এ রোগ তার শারীরিক সক্ষমতা ও হাঁটাচলায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল।
শৈশব থেকেই টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান মোহামেদ আলী। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মিসরের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন।
তবে জীবনের শেষদিকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। রোগের কারণে একপর্যায়ে অভিনয় থেকেও দূরে সরে যেতে বাধ্য হন তিনি।
অভিনেতার ভাই আহমেদ জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে মোহামেদ আলী কারও সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে বা চলাফেরা করতে পারতেন না। এমনকি শেষদিকে তার খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
মোহামেদ আলী ‘মিস্টার ক্যারাতে’, ‘রাইয়া অ্যান্ড সাকিনা’, ‘হাওয়া ওয়াল তুফফাহা’ ও ‘হিকায়াত মাজনুনা’র মতো বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
প্রয়াত খ্যাতনামা মিসরীয় অভিনেতা নূর এল শরিফের সঙ্গে ‘ইশ আইয়ামাক’ নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া ‘অ্যারেবেস্ক’ টেলিভিশন নাটকে প্রয়াত অভিনেতা সালাহ এল সাদানির বিপরীতে অভিনয় করে বিশেষভাবে প্রশংসিত হন।
২০২৬ সালে প্রচারিত ‘হাদাইক আল শায়তান’ ছিল মোহামেদ আলীর অভিনীত সর্বশেষ কাজ। এরপর শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন পর্দার বাইরে ছিলেন তিনি।
প্রায় ১৭ বছর অন্তরালে থাকার পর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মোহামেদ আলী জানিয়েছিলেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আবার অভিনয়ে ফিরতে চান। তবে সেই প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তার মৃত্যুতে মিসরের বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
