বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, খুলনা
এস এম শাহরিয়ার
বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত খুলনা, ঘাটতি ২২৯ মেগাওয়াট
প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকার সময় গরমের পাশাপাশি মশার উৎপাতও বাড়ছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরজীবন।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় তাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮০৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৫৭৮ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি দাঁড়ায় ২২৯ মেগাওয়াটে।
ওই সময় শুধু খুলনা জোনেই ১৫৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়। খুলনা জেলা ও নগরী এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ মেগাওয়াট।
একদিন আগেও পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো ছিল। গত সোমবার ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় ৭৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৬১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। ওই দিন ঘাটতি ছিল ১৫১ মেগাওয়াট। হিসাব অনুযায়ী, একদিনেই বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়েছে ৭৮ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি গৃহিণী ও শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতর অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট এবং নিয়মিত পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
সোনাডাংগার বাসিন্দা রায়হান বলেন, বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণ পরই আবার চলে যাচ্ছে। দিনের পাশাপাশি রাত ও ভোরেও লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের মধ্যে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে মশার উৎপাতও বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে দুর্ভোগ অনেক বেড়েছে।
বয়রার শিক্ষার্থী তারেক জানান, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। অ্যাসাইনমেন্ট ও অন্যান্য একাডেমিক কাজ করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে প্রচণ্ড গরমের কারণে পড়ার টেবিলে বসাই কঠিন হয়ে যায়।
ছবেদাতলার শিক্ষার্থী কুমকুম বলেন, বিদ্যুৎ যেন আসা-যাওয়ার খেলায় মেতে উঠেছে। কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজ দুটোই ব্যাহত হচ্ছে। অনলাইন ক্লাস করা যাচ্ছে না, রাতের পড়াশোনাতেও সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে পানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গোসলসহ প্রয়োজনীয় কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাতে গরমের সঙ্গে মশার উৎপাত পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তোলে।
ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বর্তমানে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল অন্য কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কমে আসবে।
