রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ত্রুটি সারিয়ে প্রেশার অপারেটেড রিলিফ ভাল্বের (পিওআরভি) পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার সময় ভাল্বের খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটম এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি ইউরেনিয়াম আজ শুক্রবার দেশে আসছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রাশিয়া থেকে সরাসরি বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে দুপুরের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ইউরেনিয়াম পৌঁছাবে।
এরপর বিশেষ ব্যবস্থায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নেওয়া হবে রূপপুরের প্রকল্প সাইটে। পর্যায়ক্রমে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই জ্বালানি আসার কার্যক্রম চলবে। দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি—সব মিলিয়ে মোট ৯টি কার্গো উড়োজাহাজে এই পারমাণবিক জ্বালানি আসবে বলে সূত্রটি জানায়।
রোসাটম জানায়, ত্রুটি সারিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া পরীক্ষা বুধবার সকালে সফলভাবে শেষ হয়। প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় জায়গা থেকেই পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এতে নিয়ন্ত্রণ ভাল্বগুলোর কার্যকারিতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রধান নিরাপত্তা ভাল্বের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয় বলে জানা গেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পরীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষা শুরু করার কথা রয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) সূত্র জানায়, ভাল্বের সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ২২ সেপ্টেম্বর রূপপুরে আসে। বাংলাদেশি ও রুশ বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় সমস্যাটির সমাধান হয়েছে।
প্রথম ধাপে ১৬ মেগাপাসকেল চাপে পরীক্ষা করা হয়। পরের ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল (প্রায় ১৫৮ গুণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ) চাপে পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। প্রতিটি ধাপের ফলাফল যাচাই করে পরের পরীক্ষায় এগোচ্ছে কমিশনিং দল।
কর্তৃপক্ষ গত ১১ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, প্রথম ইউনিটের পরীক্ষায় টারবাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাল্বের ত্রুটি ধরা পড়ায় আটকে যায় পরের ধাপের কাজ। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাল্বটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চুল্লির সফল ট্রায়াল সম্পন্ন করা যাচ্ছিল না। ত্রুটি দূর করতে রাশিয়া থেকে আবার নতুন ভাল্ব তৈরি করে আনার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ আসার কথা ছিল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম গত ২৯ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বলেছিল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের কার্যক্রম চলতি বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী কয়েকটি ফ্লাইটের মাধ্যমে এই জ্বালানি পরিবহন করা হবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে পাকশি ব্রিজসংলগ্ন স্থানে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ অ্যাটমোস্ট্রয়।
