সকাল থেকেই বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজা, উৎসবের আমেজে রাজশাহী
বাংলা বর্ষপঞ্জির মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা, জ্ঞান, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী মা সরস্বতীর পূজা উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও পূজামণ্ডপে সকাল থেকেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সরস্বতী পূজাকে ঘিরে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরেই চলছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। শেষ মুহূর্তে প্রতিমা স্থাপন, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। ফুল, রঙিন কাপড় ও নান্দনিক সাজসজ্জায় পূজামণ্ডপগুলোকে সাজানো হয়েছে, যা নগরীর সামগ্রিক পরিবেশকে আরও আনন্দময় করে তুলেছে।
রাজশাহী মহানগরীর উল্লেখযোগ্য পূজাস্থলের মধ্যে রয়েছে—রাজশাহী রেলওয়ে এলাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), রাজশাহী কলেজ, ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ নগরীর সাগরপাড়া, সাহেববাজার, যষ্টিতলা, কোর্টবাজার, নওহাটা, বায়া বাজার, তালাইমারি, কাঠাখালি, কাজলা, বিনোদপুর, ঘোড়ামারা ও ভদ্রা আবাসিক এলাকা। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা উদযাপন করা হচ্ছে।
প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুষ্পাঞ্জলি, বিশেষ প্রার্থনা, আরতি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশগ্রহণ করছেন। সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে পূজার আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পূজার পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী সরস্বতী বিদ্যা, জ্ঞান, বাকশক্তি ও সৃজনশীলতার প্রতীক। তিনি শুভ্র বসনে রাজহাঁসের ওপর আসীন হয়ে হাতে বীণা, পুস্তক ও অক্ষমালা ধারণ করেন, যা জ্ঞান, সাধনা ও সংগীতের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী সরস্বতীর কৃপায় মানুষের অন্তর থেকে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর হয় এবং জ্ঞানের আলো বিকশিত হয়।
সরস্বতী পূজার দিনে শিক্ষার্থীরা দেবীর চরণে বই, খাতা, কলম ও বাদ্যযন্ত্র অর্পণ করে বিদ্যাশিক্ষায় অগ্রগতি, মেধা বিকাশ ও সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করে। শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থীদের কাছে এই পূজার তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে পূজামণ্ডপে এসে দেবীর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।
উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
মাঘ মাসের পবিত্র এই তিথিতে বিদ্যা, জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধে আলোকিত হোক সমাজ—এই প্রত্যাশায় রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে উদযাপিত হচ্ছে বিদ্যার দেবী মা সরস্বতীর পূজা।

কোন মন্তব্য নেই: