সুন্দরবনে বনদস্যু করিম-শরীফ বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ, আটক ৩ জন।

বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃখুলনা

এস এম শাহরিয়ার

 সুন্দরবনে বনদস্যু করিম-শরীফ বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ, আটক ৩ জন।

সুন্দরবনে বনদস্যু করিম-শরীফ বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বনদস্যু বাহিনীর তিন সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।


কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়াখালী খালসংলগ্ন এলাকায় করিম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকেল থেকে টানা দুই দিন ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড।


তিনি জানান, অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ড সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে বনদস্যুরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। পরে কোস্ট গার্ডের তীব্র প্রতিরোধের মুখে দস্যুরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়।


আটকদের কাছ থেকে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, দুটি ওয়াকিটকি ও চারটি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।


আটকরা হলেন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মেহেদী হাসান (২৫) ও রমজান শরীফ (১৯), এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এনায়েত (২৫)।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে করিম-শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।


এর আগে গত ১৩ মে বন বিভাগের সহযোগিতায় করিম-শরীফ বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকে উদ্ধার করেছিল কোস্ট গার্ড।


জব্দকৃত অস্ত্র-গুলি ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। পাশাপাশি সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন