বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বন বিভাগের গাছ কাটার অভিযোগ


 

উপজেলা প্রতিনিধিঃনবাবগঞ্জ,দিনাজপুর

মোঃরাহেল সরকার  

বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বন বিভাগের গাছ কাটার অভিযোগ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্র এলাকায় বন বিভাগের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ফিল্ড এসিস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে বনাঞ্চলের একটি গাছ কেটে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল ভোরে চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রের ফিল্ড

এসিস্ট্যান্ট মো. সাইফুল ইসলাম বন বিভাগের একটি অপরিপক্ক ইউক্যালিপটাস গাছ কর্তন করেন। পরে সেই গাছ ব্যক্তিগত বাড়ির কাজে ব্যবহার করার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময়  স্থানীয়রা আটক করে বিরামপুর রেঞ্জ কর্মকর্তার হেফাজতে রাখে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বনাঞ্চলের গাছ কাটতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও এ ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। রাতের আঁধারে এসব গাছ নিধনের সঙ্গে প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তারা বলেন,বনের গাছ কাটা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নজরের সামনেই এসব হচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। গাছগুলো চোরের কাটা ছিল। অফিসের রান্নাঘরের কাজে ব্যবহারের জন্য সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে পথিমধ্যে এক সাংবাদিক বিষয়টি আটক করে বিরামপুর রেঞ্জ অফিসে নিয়ে রাখেন। আমার ভুল ছিল, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা নির্দেশনা ছাড়া এ ধরনের কাজ করা ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে বিরামপুর চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বন গবেষণা কেন্দ্রটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়; সরাসরি চট্টগ্রাম বন গবেষণা অফিস থেকে পরিচালিত হয়। তবে বন গবেষণা কেন্দ্রে থেকে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ইউক্যালেপ্টাস গাছের দুটি টুকরো আমাদের কাছে হেফাজতে রাখা হয়েছে। যেহেতু গাছগুলো আমাদের বাগানের নয়, তাই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গাছগুলো রেঞ্জ অফিসেই সংরক্ষিত থাকবে।

বাংলাদেশের প্রচলিত বন আইন অনুযায়ী, সরকারি বনাঞ্চলের কোনো গাছ কর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া গাছ কাটলে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন