আমার স্বামী রবিনকে খুব মিস করছি: শবনম


 আমার স্বামী রবিনকে খুব মিস করছি: শবনম

 ষাট থেকে আশির দশক পর্যন্ত অভিনয়, রূপ ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে রুপালি পর্দা মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ‘নাচের পুতুল’ সিনেমায় নায়ক রাজ্জাকের বিপরীতে তার অভিনয় এবং কালজয়ী গান ‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন’ আজও শ্রোতা-দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। এছাড়া ‘সন্ধি’, ‘সন্দেহ’, ‘সহধর্মিণী’, ‘যোগাযোগ’ এবং সর্বশেষ কাজী হায়াত পরিচালিত কালজয়ী ‘আম্মাজান’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেন।


দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মাননা এবং ‘মা পদক’ পেলেও এবারই প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন এই জীবন্ত কিংবদন্তি। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আজীবন সম্মাননা’য় ভূষিত হতে যাচ্ছেন অভিনেত্রী শবনম। 

জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ফল প্রকাশের পর কয়েকটি বিভাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে, আজীবন সম্মাননা ও সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে বিচারকদের সুপারিশ উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। অবশেষে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালা অনুযায়ী আজীবন সম্মাননার জন্য শবনমের নাম চূড়ান্ত করা হয়।


গতকাল সকালে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি জানতে পারেন অভিনেত্রী। রাষ্ট্রীয় এই বড় স্বীকৃতির খবরে তিনি ভীষণ আবেগাপ্লুত ও উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘অনেক পরে হলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্তির ঘোষণা আসায় আমি সত্যিই অনেক আবেগাপ্লুত। ‌আমি এ দেশেরই মেয়ে, এ দেশেই আমার জন্ম। একসময় পাকিস্তানের বহু সিনেমায় অভিনয় করলেও বাংলাদেশের অনেক জনপ্রিয় সিনেমায়ও আমি কাজ করেছি।’


তিনি আরো বলেন, ‘আজকের এই খুশির মুহূর্তে আমার স্বামী রবিনকে খুব মিস করছি। তিনি বেঁচে থাকলে কতটা খুশি হতেন, তা সত্যিই আমি বোঝাতে পারব না। আমার একমাত্র ছেলে রনিসহ পরিবারের সবাই এই খবরে ভীষণ আনন্দিত। চলচ্চিত্র পরিবারের অনেকেই আমাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।’


এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিচারকদের প্রতি এবং দেশের দর্শকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। 

‘আম্মাজান’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় অনেকেই আশা করেছিলেন, শবনম ও প্রয়াত নায়ক মান্না জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবেন। কিন্তু সে সময় পুরস্কার না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও ‘আজীবন সম্মাননা’র প্রতি সবসময়ই একটি বিশেষ শ্রদ্ধা ও প্রত্যাশা ছিল এই অভিনেত্রীর।


‘আম্মাজান’ সিনেমা থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাচ্ছেন, তাকে অবর্ণনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন