ফুটবলের রাজধানী এখন নিউইয়র্ক


  ফুটবলের রাজধানী এখন নিউইয়র্ক

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর উদ্বোধনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোজুড়ে শুরু হয়ে গেছে ফুটবলের মহোৎসব। তবে আয়োজক ১৬টি শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নিউ ইয়র্ক। বিশ্বের নানা দেশের মানুষের মিলনভূমি এই শহর এখন যেন ফুটবল জ্বরে কাঁপছে। রাস্তা, পার্ক, শপিং সেন্টার, ক্রীড়াঙ্গন-সবখানেই বিশ্বকাপকে ঘিরে উৎসবের আমেজ। অনেকের চোখে নিউইয়র্ক ইতোমধ্যে বিশ্ব ফুটবলের অস্থায়ী রাজধানীতে পরিণত হয়েছে।


বিশ্বকাপ উপলক্ষে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নিউজার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট চলাকালে এর নতুন নাম হয়েছে নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামের সর্বত্র নতুন নামের ব্র্যান্ডিং স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ১৩ জুন এখানে হবে এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচ। সেই ম্যাচে যেখানে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও মরক্কো। বিশ্বকাপের এই আসরে হট ফেভারিটের ট্যাগ নিয়ে আসছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা হেক্সা (ষষ্ঠ) জয়ের মিশন নিয়ে মাঠে নামবে। প্রতিপক্ষ হিসেবে আফ্রিকার দেশ মরক্কোও প্রস্তুত বিশ্বকে চমকে দেওয়ার জন্য। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো সব হিসাব বদলে দিয়ে উঠে এসেছিল সেমিফাইনালে। আফ্রিকা এবং আরব দেশের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে মরক্কো বিশ্বকাপের শেষ চারে খেলার মর্যাদা অর্জন করেছিল। সেই বিশ্বকাপে তারা শেষ পর্যন্ত চতুর্থ হয়ে সাফল্যের সঙ্গে টুর্নামেন্ট শেষ করে। এবারের বিশ্বকাপে শক্তিমান ব্রাজিলকে প্রথম ম্যাচেই চমকে দেওয়ার জন্য ফুঁসছে মরক্কো।


নিউ ইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই বসবে ফুটবলের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত আসর-বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ফাইনাল। সেই ফাইনালে ব্রাজিল থাকবে কি না, তার একটা আনুমানিক হিসাব মিলবে মরক্কোর সঙ্গে টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম ম্যাচেই! বিশ্বকাপ ফাইনাল সব মিলিয়ে আটটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজন করবে নিউ ইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়াম।


বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়ামটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ফিফার নির্দেশনা অনুযায়ী বহুদিনের ব্যবহৃত কৃত্রিম টার্ফ পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তার জায়গায় নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ২৪টি ট্রাকে করে আনা হয়েছে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা 'তাহোমা ৩১ বারমুডা' ঘাস। দুই ফুট গভীর বালুর স্তর, অত্যাধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্টেট-অব-দ্য-আর্ট ভ্যাকুয়াম ভেন্টিলেশন প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রাকৃতিক ঘাসের নতুন মাঠ। ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শক এই স্টেডিয়ামে বসে খেলা উপভোগ করতে পারবেন।


বিশ্বকাপ ঘিরে শুধু স্টেডিয়ামেই নয়, নিউ ইয়র্কজুড়েই নেওয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন। যারা টিকিট না পাওয়ায় মাঠে যেতে পারবেন না, তাদের জন্য পাঁচটি বিগ স্ক্রিনেই বিনামূল্যে খেলা দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত পরিবেশনা ও নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম।


বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে কুইন্সের ইউএসটিএ বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারে আয়োজন করা হচ্ছে ১৭ দিনব্যাপী বিশাল ফ্যান ফেস্ট। সেখানে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত শিল্পী নাস ও ওয়াইক্লেফ জিন। দর্শকদের যাতায়াত সহজ করতে ম্যানহাটন থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত বিশেষ শাটল সার্ভিসও চালু করা হচ্ছে।


এদিকে বিশ্বকাপের ৪৮টি দল ইতোমধ্যে নিজেদের বেস ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি দল যুক্তরাষ্ট্রে, সাতটি দল মেক্সিকোতে এবং দুটি দল কানাডায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনা রয়েছে মিসৌরির কানসাস সিটিতে, ব্রাজিল নিউজার্সিতে, ফ্রান্স ম্যাসাচুসেটসে, জার্মানি নর্থ ক্যারোলিনায়, স্পেন টেনেসিতে এবং পর্তুগাল ফ্লোরিডায়। দলগুলো অনুশীলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলছে।


ফুটবল বিশ্বের চার মহাতারকা-লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নেইমার-ইতোমধ্যে নিজ নিজ দলের সঙ্গে প্রস্তুতি কার্যক্রমে যোগ দিয়েছেন। তাদের উপস্থিতি বিশ্বকাপ ঘিরে উন্মাদনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।


বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্ক অঞ্চলে প্রায় ৩ থেকে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হবে। হোটেল, পরিবহন, পর্যটন, বিনোদন ও খুচরা ব্যবসা-সবখানেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞের অপেক্ষা এখন শেষ প্রহরে। আর সেই মহাযজ্ঞকে ঘিরে নিউ ইয়র্ক প্রস্তুত-উৎসব, উন্মাদনা ও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অংশ হওয়ার জন্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন