চর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জুলাই শহীদ স্মরণসভা: প্রধান বক্তা নির্বাচন ও আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন


‎জেলা প্রতিনিধি (ভোলা)

মীর শাহীন 

‎চর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জুলাই শহীদ স্মরণসভা: প্রধান বক্তা নির্বাচন ও আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন

‎ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভার প্রধান বক্তা নির্বাচন এবং অনুষ্ঠানের আয়োজনের ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আইচা থানা যুবলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এবং বর্তমানে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিন বিপ্লব।

‎সমালোচকদের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মহিউদ্দিন বিপ্লব প্রকাশ্যে আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়েছিলেন। তাদের আরও অভিযোগ, সে সময় তিনি যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত মাঠে সক্রিয় ছিলেন। সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ জুলাই সকাল ১০টায় চরফ্যাশনে যুবলীগের একটি বৈঠক শেষে দক্ষিণ আইচায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিকাল ৪টায় দক্ষিণ আইচা  থানা সদরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন  বলেও তারা দাবি করেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই শহীদদের স্মরণসভায় তাকে প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

‎সমালোচকদের আরও দাবি, জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং সে সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করার জন্য আয়োজিত একটি স্মরণসভায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পদধারী একজন নেতাকে প্রধান বক্তা হিসেবে রাখা কতটা যৌক্তিক-এ প্রশ্নের উত্তর তারা জানতে চান।

‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মহিউদ্দিন বিপ্লবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎এদিকে, অনুষ্ঠানটির আয়োজন নিয়েও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। প্রচলিত ব্যানারের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডে সাদা চক দিয়ে "জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা" লিখে কর্মসূচি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

‎ছবিতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো প্রিন্টেড ব্যানার বা স্মারক ব্যাকড্রপ ব্যবহার করা হয়নি। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এমন একটি অনুষ্ঠানে ন্যূনতম একটি ব্যানার বা উপযুক্ত আয়োজন না থাকা তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক, বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম শাহ। তাঁর উপস্থিতিতে মহিউদ্দিন বিপ্লবকে প্রধান বক্তা হিসেবে নির্বাচন করায় এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

‎এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবুল কাশেম শাহকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

‎অন্যদিকে, চর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আজকের অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সহকারী প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানকে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু আমি জানি না।"

‎পরে সহকারী প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি।

‎প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে মহিউদ্দিন বিপ্লবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন