রাজশাহী ব্যুরো
অপু দাস
মাদক, সাইবার অপরাধ ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজশাহীতে র্যাব-৫-এর টাউন হল সভা
মাদক, সাইবার অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজশাহীতে টাউন হল সভার আয়োজন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী কলেজের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন র্যাব-৫-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী এবং র্যাব-৫-এর মেজর মনজুরুল কবির পিয়াল। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে র্যাব-৫-এর উদ্যোগে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব, সাইবার অপরাধের বিভিন্ন ধরন, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণ ও প্রতিরোধ, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সচেতনতামূলক উপস্থাপনা করা হয়।
এ সময় সাম্প্রতিক সময়ে র্যাব-৫ পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের তথ্য সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশিদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব একটি দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাহিনীটির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, যে দায়িত্বই র্যাবের ওপর অর্পণ করা হয়, তা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাহিনীটির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সাইবার অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও জানান, র্যাব-৫ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীরা র্যাব-৫-এর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, মাদক, সাইবার অপরাধ, কিশোর গ্যাং, চোরাচালান এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের সচেতনতামূলক টাউন হল সভা দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত আয়োজন করা হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
