মিঠাপুকুরে বিএনপি নেতার ‘ইয়াবা সেবনের ভিডিও’ ভাইরাল, রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়।


 

মিঠাপুকুর(রংপুর),প্রতিনিধি

বিপুল চন্দ্র বর্মন

মিঠাপুকুরে বিএনপি নেতার ‘ইয়াবা সেবনের ভিডিও’ ভাইরাল, রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বিএনপির এক নেতার কথিত ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির নেতারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


জানা গেছে, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান। রোববার (১২ জুলাই) বিকেল থেকে ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই ভিডিওটি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। অনেকেই ভিডিওটি শেয়ার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান এর আগেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের ছাদে নিয়মিত মাদকের আসর বসাতেন। এছাড়া উপজেলা মাদকবিরোধী কমিটির এক নেতাকে প্রকাশ্যে ‘রক্ত দিয়ে গোসল করানোর’ হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ভাইরাল হওয়া ভিডিও সম্পর্কে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে ভিডিওটির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


এ বিষয়ে লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পরপরই আমি বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে অবহিত করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর দলীয় সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”


মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম নিক্সন (পাইকার) বলেন, “এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি এবং মেহেদী হাসানের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সেটি আমি শুনেছি। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বা ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করে প্রমাণিত হয়, তাহলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি কোনো ধরনের মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না।”


উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, “ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই। সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ করিনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। তবে ভিডিওটির সত্যতা কিংবা এটি কবে ও কোথায় ধারণ করা হয়েছে সে বিষয়ে এখনো প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও দলীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন