রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ


পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 

মোঃ কামরুল হাসান প্রধান 

রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ

রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ মো. রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যক্ষ তার বড় ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামান, প্রভাষক মাহমুদ হাসান ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পলাশ সরকারকে নিয়ে কলেজে অনিয়মের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। কলেজের ৪০টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও মাদারবোর্ড খুলে ফেলা, ৪০টি রাউটার নষ্ট দেখিয়ে বিক্রি করে নিম্নমানের রাউটার সরবরাহ, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ নিখোঁজ হলেও ব্যবস্থা না নেওয়া, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো, শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সরিয়ে অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে কলেজ পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীরা জানান, আগেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা এবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বস্ত্র অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ পাঠিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী বলেন, অধ্যক্ষ ও তার সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে অধ্যক্ষ মো. রঞ্জু মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারাই এসব অভিযোগ করেছেন। কম্পিউটার সচল করতে কিছু যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে, রাউটার শিক্ষার্থীদের কমিটির সিদ্ধান্তে স্থাপন করা হয়েছে এবং নিখোঁজ ল্যাপটপটি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, কাজের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসের কারণেই তার ভাইকে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে।


তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৬

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন