মিথ্যা মামলায় ২৩ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত গোদাগাড়ীর ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ


রাজশাহী ব্যুরো

অপু দাস

মিথ্যা মামলায় ২৩ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত গোদাগাড়ীর ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার শীর্ষ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মো. আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ ২৩ দিন কারাভোগের পর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ১৩ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এম.এ ব্রিকস এবং মা ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী। তিনি সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আরসিসিআই) একজন নিয়মিত সদস্য হিসেবেও পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট ও আয়কর প্রদান করে আসছেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন। তার দাবি, অতীতে একাধিক ভিত্তিহীন মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব বিষয় তুলে ধরে তিনি গত ১৯ জুলাই সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি ব্যবসা পরিচালনায় নিরাপত্তা, পরিবারকে সুরক্ষা প্রদান এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

তবে আবেদনের পরদিন, ২০ জুলাই গভীর রাতে যৌথ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ী এলাকার নিজ বাসা থেকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাকে একটি চলমান মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আজাদের পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিপক্ষের প্রভাব ও বিভিন্ন মহলের সহযোগিতায় তাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, তার আটক ও কারাবাসের ঘটনায় তারা উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ বা আক্রোশের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। একটি চলমান মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তাকে আটক করা হয়েছিল এবং প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ২৩ দিন কারাগারে থাকার পর আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান আবুল কালাম আজাদ। মুক্তি লাভের পর তিনি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে তিনি ও তার পরিবার কোনো ধরনের হয়রানি বা নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের একাংশও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হবে এবং সকল পক্ষ ন্যায়বিচার পাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন