মিরপুরে রাড্ডা হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরে এবি পার্টির তীব্র নিন্দা


 রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ নিন্দা জানান।


এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা নয়; এটি রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসনের সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। রাজধানীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দুই শতাধিক লোক রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাবে এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তা ঠেকাতে ব্যর্থ হবে—এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।


তারা বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নগদ অর্থ লুট করেছে। এমনকি ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পুরো স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জমি নিয়ে বৈধ দাবি থাকলে তার নিষ্পত্তির জন্য আইন, আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, জমির মালিকানা বা লিজ নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে হবে। কোনো লিজ বা মালিকানার দাবি কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা দখলের বৈধতা দেয় না। রাতের আঁধারে দলবল নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় কারও রাজনৈতিক পরিচয়, পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। গণমাধ্যমে কোনো কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা স্থানীয় নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাঁকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলেও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন