![]() |
| এস এম শাহরিয়ার |
মানুষের কথা তুলে ধরাই সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব: এস এম শাহরিয়ার
দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, খুলনা এস এম শাহরিয়ারের সাক্ষাৎকার
আগামী ১১ অক্টোবর দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের পথচলা, সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা, প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরার গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, খুলনা এস এম শাহরিয়ার। তিনি প্রায় এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
১. দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের সঙ্গে আপনার পথচলা কীভাবে শুরু হয়েছিল?
দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের সঙ্গে আমার পথচলা শুরু হয় সাংবাদিকতার দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কথা তুলে ধরার প্রত্যয় থেকেই। একজন মাঠপর্যায়ের সাংবাদিক হিসেবে সবসময় চেষ্টা করি সাধারণ মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা, অধিকার ও সম্ভাবনার কথা সঠিকভাবে তুলে ধরতে। দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশ সেই কাজের জন্য আমাকে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার পেশাগত সম্পর্ক আরও গভীর ও আন্তরিক হয়েছে। আমি প্রায় এক বছর ধরে এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত আছি।
২. আগামী ১১ অক্টোবর দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী—এই দিনটি আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যেকোনো সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি বিশেষ দিন। এটি শুধু আনন্দ ও উদযাপনের দিন নয়; বরং পেছনে ফিরে নিজেদের কাজ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণেরও দিন। দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের সঙ্গে যারা কাজ করছেন, তাদের জন্য ১১ অক্টোবর একটি আবেগ ও গর্বের দিন। এই দিনে প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পারাটা আমার জন্যও আনন্দের ও সম্মানের।
৩. দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ভালো। একটি সংবাদমাধ্যমে কাজ করার ক্ষেত্রে পেশাদার পরিবেশ, সংবাদকে গুরুত্ব দেওয়া এবং মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের কাজের সুযোগ তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশে কাজ করতে গিয়ে আমি বিভিন্ন ধরনের সংবাদ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মানুষের কাছাকাছি গিয়ে তাদের কথা তুলে ধরার সুযোগটি এখানে গুরুত্বের সঙ্গে পেয়েছি।
৪. এই প্রতিষ্ঠানের কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে?
আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে মানুষের কথা বলার সুযোগ এবং মাঠপর্যায়ের সংবাদকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি। সংবাদ শুধু রাজধানী বা বড় শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনা ঘটে, মানুষের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা তৈরি হয়। সেসব বিষয় জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার মানসিকতা আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।
৫. প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরার ক্ষেত্রে দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
আমি মনে করি, একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সমাজের পিছিয়ে থাকা ও প্রান্তিক মানুষের কথা সামনে নিয়ে আসা। দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশ সেই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং রাখছে। যাদের কথা অনেক সময় মূলধারার আলোচনায় আসে না, তাদের সমস্যা, অধিকার, জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প সংবাদে তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে যেমন মানুষের সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে, তেমনি সমাজেও সচেতনতা তৈরি হয়।
৬. আপনার এলাকায় কাজ করতে গিয়ে এমন কোনো অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা আপনাকে সাংবাদিক হিসেবে অনুপ্রাণিত করেছে?
অসংখ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনে সংবাদ প্রকাশের পর যখন দেখি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং কোনো মানুষের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তখন সাংবাদিকতার শক্তিটা সবচেয়ে বেশি অনুভব করি।
আবার সাধারণ মানুষের ছোট কোনো সাফল্য, সংগ্রাম বা মানবিক উদ্যোগ যখন সংবাদ হয়ে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিও আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে মনে করিয়ে দেয়, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়; এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও একটি মাধ্যম।
৭. দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে আপনি কী কী শিখেছেন?
প্রতিটি সংবাদই নতুন কিছু শেখায়। দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দ্রুততার সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্য যাচাই, বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, সংবাদের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পাঠকের কাছে সহজ ও পরিষ্কারভাবে তথ্য তুলে ধরার বিষয়ে আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—একটি ভালো সংবাদ তৈরির আগে মাঠে গিয়ে মানুষের কথা শুনতে হয় এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে হয়।
৮. আগামী দিনে দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশকে আপনি কোথায় দেখতে চান?
আমি চাই দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশ দেশের অন্যতম শক্তিশালী, বিশ্বাসযোগ্য ও জনবান্ধব সংবাদমাধ্যম হিসেবে আরও এগিয়ে যাক। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকে আরও শক্তিশালী করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ভূমিকা রাখুক।
একই সঙ্গে আধুনিক ডিজিটাল সাংবাদিকতা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাক—এটাই আমার প্রত্যাশা।
৯. দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে আপনার পরামর্শ কী?
আমার পরামর্শ হবে, সংবাদে গতি ও আধুনিকতার সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের আরও প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া, অনুসন্ধানী ও ডেটাভিত্তিক সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করা এবং জেলা-উপজেলার সংবাদকে আরও গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
পাশাপাশি পাঠকের আস্থা ধরে রাখতে তথ্য যাচাই এবং সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ডকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
১০. প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঠক, দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?
দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের পাঠক, দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের ভালোবাসা, আস্থা ও সহযোগিতাই একটি সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের প্রত্যাশা, আপনারা আগামীতেও আমাদের সঙ্গে থাকবেন, ভুল হলে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন এবং সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে আমাদের উৎসাহিত করবেন।
১১. প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও পুরো টিমের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী?
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানসহ পুরো টিমের প্রতি আমার প্রত্যাশা, তারা যেন সংবাদমাধ্যমটির মূল শক্তি হিসেবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাদারিত্ব, বস্তুনিষ্ঠতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও শক্তিশালী করেন।
মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের মূল্যায়ন, তাদের নিরাপত্তা ও পেশাগত উন্নয়নের দিকেও আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করি। একটি ঐক্যবদ্ধ ও দক্ষ টিমই দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশকে আরও দূর এগিয়ে নিতে পারে।
১২. দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের জন্য আপনার একটি বিশেষ শুভেচ্ছা বা প্রত্যাশা কী?
দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের জন্য আমার বিশেষ শুভেচ্ছা হলো—প্রতিষ্ঠানটি যেন সত্য ও মানুষের পক্ষে কথা বলার শক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন এগিয়ে যায়।
সংবাদ হোক মানুষের অধিকার, সমাজের বাস্তবতা এবং দেশের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। প্রতিষ্ঠার প্রতিটি বছর যেন নতুন সাফল্য, নতুন আস্থা ও নতুন অর্জনের গল্প হয়ে ওঠে।
দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। শুভ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
সাক্ষাৎকার:
এস এম শাহরিয়ার
বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, খুলনা
দৈনিক নিউজ-বাংলাদেশ
.jpg)