এস এম শাহরিয়ার
বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান,খুলনা
খুলনার খালিশপুরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গাফিলতিতে ক্ষোভ কেসিসি প্রশাসকের
খুলনা নগরীর খালিশপুর এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। শনিবার (০৩ অক্টোবর) সকালে তিনি নগরীর ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসক ওই এলাকায় পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য অপসারণ, পানি নিষ্কাশন এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খালিশপুরের এ এলাকার প্রতি আগামী দিনে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ড্রেন পুনর্নির্মাণ করতে হবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে ছোট ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনের সঙ্গে সেপটিক ট্যাংকের সংযোগ থাকলে তা বন্ধ করার জন্য এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদেরও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে এবং ড্রেন ও সড়কে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
পরিদর্শন শেষে কেসিসি প্রশাসক একটি সচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র্যা লিতে নেতৃত্ব দেন। র্যালিতে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, সমাজসেবক অ্যাডভোকেট ফজলে হালিম লিটন, সামছুর রহমান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা নগরীতেও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলমান কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করছেন কেসিসি প্রশাসক।
