খুবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন


 বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃখুলনা

এস এম শাহরিয়ার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) উৎসবমুখর পরিবেশে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের শিকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা প্রকাশ পায়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর নববর্ষ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজন করা হয়, যা শিক্ষার্থীসহ আশপাশের মানুষের জন্যও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অংশগ্রহণই এ আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

উপাচার্য নতুন বছরের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি বৈষম্যহীন সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, নববর্ষ উদযাপন কমিটির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. রুমানা হক, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান এবং সদস্য সচিব ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাতসহ সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে হাদী চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। কাঠের মোটিফ, মুখোশ, আলপনা এবং ঢাক-ঢোলের তালে সাজানো এ শোভাযাত্রা পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ।

পরে কেন্দ্রীয় মাঠে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পিঠা-পুলি, হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল বসে। শিশুদের জন্য ছিল নাগরদোলা, ম্যাজিক শোসহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা।

এছাড়া বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা।

দিনভর শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন