রংপুর সদর উপজেলা প্রতিনিধি
শাহারির হাসান সাজিদ
মাদক, চাঁদাবাজি ও ওয়ারেন্ট অভিযানে আরপিএমপির জালে ২৭ জন গ্রেফতার
রংপুর, ২১ মে ২০২৬: মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযান, চাঁদাবাজ দমন, ওয়ারেন্ট তামিল এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। বুধবার আরপিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস রিলিজে বলা হয়, আরপিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কোতয়ালী, পরশুরাম, মাহিগঞ্জ ও তাজহাট থানা পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাদকসেবী, চাঁদাবাজ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন।
গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পৃথক অভিযানে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে ৪ জনকে আটক করা হয়। ১৯ মে কোতয়ালী থানার শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজিব হোসেন মঞ্জ (২৫) নামে এক যুবককে মাদক সেবনের দায়ে আটক করা হয়। একই রাতে ধাপ কটকিপাড়ার একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে মিনহাজ আহম্মেদ, মহিম হাসান, শাহারিয়ার সরকার ও আব্দুল মজিদকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ এলাকা থেকে দিপক বিশ্বাসকে এবং শাপলা সিনেমা হলের পিছন এলাকা থেকে আজাদ ও আরমান হোসেনকে গাঁজা সেবনের দায়ে আটক করা হয়। ইসলামপুর এরশাদ হকার্স মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন ও আরিফুল ইসলাম জীবনকে মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কোতয়ালী থানা পৃথক অভিযানে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। পার্বতীপুর এলাকায় জনসাধারণের চলাচলে বাধা, অশালীন ভাষা ব্যবহার ও মারমুখী আচরণের দায়ে আব্দুর রহমান ও তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও পার্বতীপুর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় মহানগর পুলিশ আইন, ২০১৮ এর ৮৭(ঘ) ধারায় পৃথক নন-এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।
এদিকে পশ্চিম মুলাটোল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে এটিএম শফিউল বারী নিলয় ওরফে রোমানকে ৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।
পরশুরাম থানা পৃথক অভিযানে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। চিলারঝার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এলাকা থেকে আমিনুল ইসলাম রতনকে আটক করা হয়। এছাড়া কোবারু এলাকা থেকে জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি সুধির চন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাহিগঞ্জ থানা বিশেষ অভিযানে তিনজনকে আটক করেছে। ফকিরা গ্রামে জনসম্মুখে অশালীন আচরণের দায়ে মুরাদ হোসেনকে এবং নাছনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে মাদক সেবনের দায়ে আব্দুল আলিমকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ একাধিক মামলার আসামি ইমনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে তাজহাট থানা পৃথক অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। কোর্টপাড়া এলাকা থেকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ইমরানকে আটক করা হয়। এছাড়া টিবি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় মারমুখী আচরণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের দায়ে সাগর ইসলামকে আটক করে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়। একই দিনে মানজাই এলাকায় জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে রবিউল ইসলাম, আনিছুর রহমান লেবু ও মাহাবুবার রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরপিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় মহানগরীতে নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে
