হরিণাকুণ্ডুর নারায়ণকান্দি গ্রামে আঙুর চাষে শরিফুল ইসলামের সাফল্য



স্টাফ রিপোর্টার ঝিনাইদহ

মোঃ রবিউল ইসলাম

হরিণাকুণ্ডুর নারায়ণকান্দি গ্রামে আঙুর চাষে শরিফুল ইসলামের সাফল্য।

​ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর মাটিতে এখন দুলছে বিদেশি ফল আঙুর। উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত নারায়ণকান্দি গ্রামে শরিফুল ইসলাম নামের এক কৃষক আঙুর চাষ করে বাজিমাত করেছেন। তার মাচায় ঝুলছে থোকায় থোকায় মিষ্টি আঙুর। বিষমুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় এই আঙুর দেখতে ও কিনতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।


​সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে থোকায় থোকায় আঙুর। কোনোটি গাঢ় সবুজ, আবার কোনটি হালকা লালচে। দৃশ্যটি কোনো বিদেশের আঙুর বাগানের নয়; এটি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার নারায়ণকান্দি গ্রামের চিত্র। ইউটিউবে ভিডিও দেখে শখের বশে বাগান শুরু করলেও, আজ তা শরিফুলের জীবনে এনে দিয়েছে বড় সাফল্য।

​শরিফুল ইসলামের এই বাগানে কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা এই আঙুর যেমন সুস্বাদু, তেমনি আকারেও বেশ বড়। সাধারণত বাজারে পাওয়া আঙুরের চেয়ে এই আঙুর অনেক বেশি সতেজ ও স্বাস্থ্যসম্মত।

আঙ্গুর চাষী শরিফুল ইসলাম বলেন : "আমি প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম যে আমাদের মাটিতে মিষ্টি হবে কি না। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা আর জৈব সার ব্যবহার করার পর দেখলাম ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আঙুরগুলো খেতেও খুব মিষ্টি। আগামীতে আমি এই চাষ আরও বড় আকারে করার চিন্তা করছি।"

​অভাবনীয় এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ছুটে আসছেন বাগান দেখতে। অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন নতুন এই ফল চাষে। স্থানীয় বাজারের চাহিদাও মেটাচ্ছে এই বাগান।

​কৃষি বিভাগের মতে, এ অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি আঙুর চাষের জন্য বেশ সম্ভাবনাময়। সঠিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে এই চাষ বাড়ানো গেলে মিটবে পুষ্টির চাহিদা, সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রার।

বাংলাদেশে আঙুর চাষের সম্ভাবনা যে আরও উজ্জ্বল হতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ এই শরিফুল ইসলাম। যথাযথ সরকারি সহযোগিতা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ পেলে, বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন