দক্ষিন আইচায় মাসিক স্বাস্থ্যবিধি দিবস পালিত সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান।


জেলা প্রতিনিধি (ভোলা)

মীর শাহীন 

 দক্ষিন আইচায় মাসিক স্বাস্থ্যবিধি দিবস পালিত সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান।

বিশ্বব্যাপী নারীদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ২৮ মে পালিত হয় মাসিক স্বাস্থ্যবিধি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং র‍্যালির আয়োজন করে থাকে। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো মাসিক নিয়ে বিদ্যমান কুসংস্কার ও সামাজিক সংকোচ দূর করা এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। 



আজ (৮ জুন) ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানায় সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, প্রতিনিধি, দরবার গার্লস, পিয়ার লিডার, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং কিশোর-কিশোরীসহ প্রায় ২৩০ জন অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে বেসরকারি সংস্থা (আভাস) এর তত্বাবধানে   মাসিক স্বাস্থ্যবিধি দিবস (এমএইচডি) উদযাপিত হয়েছে।



সকাল ১০ ঘটিকায় দক্ষিন আইচা বাস স্ট্যান্ড থেকে  একটি র‍্যালি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দক্ষিণ আইচা কলেজে গিয়ে  আলোচনা সভা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উপর একটি ছোট নাটকসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়। 


এই কার্যক্রমগুলো মাসিক স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, খোলামেলা আলোচনাকে উৎসাহিত করা এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে সহায়তা করেছে। এই উদযাপনটি মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং একটি আরও সচেতন, সহায়ক ও কলঙ্কমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন অংশীজনকে সফলভাবে একত্রিত করেছে।



আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আইচা কলেজের প্রিন্সিপাল মোঃ আবুল হাসেম মহাজন,প্রভাষক মোঃ মহিবুল্লাহ, দক্ষিণ আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃনাসির উদ্দিন,সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ সাবের আহমদ,ফরিদা খানম (এফডব্লিও ভি) মোঃ ইব্রাহিম ( এফপিআই) শাহনাজ বেগম ( এফডব্লিওএ) তাসলিমা বেগম ( সিএইচসিপি) ইউএফপিও কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ ও আভাসের কর্মকর্তা পিএম রবিউল আমিন।


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাসিক নারীদের জীবনের একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। অথচ এখনও অনেক কিশোরী ও নারী এ বিষয়ে সঠিক তথ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের অভাবে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হন। নিরাপদ স্যানিটারি সামগ্রীর ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা নিশ্চিত করা জরুরি। 


বক্তারা আরও বলেন, মাসিক নিয়ে লজ্জা বা গোপনীয়তার সংস্কৃতি ভেঙে সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে। কিশোরীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি করাও সময়ের দাবি। 


দিবসটি উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীরা নারী ও কিশোরীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত, বৈষম্যহীন এবং সচেতন সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন