কোনো শীর্ষক নেই


পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 

মোঃকামরুল হাসান প্রধান 

পীরগঞ্জের কুমেদপুর ইউনিয়নে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের কাজে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন 

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পে নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরাদ্দকৃত অর্থে বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অবগত নন।

সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নির্বাচন, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে প্রাক্কলন প্রণয়ন এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে টেন্ডার বা আরএফকিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এছাড়া কাজ শুরুর আগে জিপিএস ক্যামেরায় প্রকল্পস্থলের ছবি সংরক্ষণসহ নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করার বিধান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের কয়েকজন সদস্য এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। কোথাও পুরোনো কাজ সংস্কার করে নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাক্কলন, বাস্তব কাজ এবং বিল উত্তোলনের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুমেদপুর ইউনিয়নে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনটি পৃথক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে কাঞ্চনপুর গ্রামে শহিদুলের বাড়ি থেকে পুরাতন মসজিদ ও পাকা রাস্তা থেকে মুন্নার বাড়ি পর্যন্ত পাইপ ড্রেন নির্মাণে ২ লাখ টাকা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠারপাড়া এলাকায় মহিদুলের বাড়ি থেকে আখিরা ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা সলিংয়ের জন্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদপুর তালিমখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পাকা রাস্তা থেকে বাবুল মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও সলিংয়ের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কুমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৌমিক হাসান জানান, এসব প্রকল্পের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাঁর ভাষ্য, কাজ শুরুর আগে জিপিএস ক্যামেরার মাধ্যমে প্রকল্পস্থলের ছবি সংরক্ষণ করার বিধান রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ১ শহিদুল ইসলাম বলেন, "আমার ইউনিয়নের কাজ হলেও কখন কাজের উদ্বোধন হয়েছে, কখন শেষ হয়েছে কিংবা টেন্ডার বা আরএফকিউ কবে হয়েছে এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।"

কুমেদপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মোকলেছার রহমান বলেন, "উপজেলা পরিষদের মাসিক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি প্রাক্কলন প্রস্তুত করে দিয়েছি। তবে কাজ কখন শুরু হয়েছে বা কখন শেষ হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন