বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, খুলনা
এস এম শাহরিয়ার
খুবিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি: প্রশাসনের জরুরি সভায় একাধিক সিদ্ধান্ত, মামলা ও তদন্তে জোর
খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) সাম্প্রতিক ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিক জরুরি সভা করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত কমিটি গঠন, হল ক্যান্টিন পরিচালনায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, কিছু প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত কয়েকটি দাবির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিজয় '২৪ ছাত্রী হলের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানকে শিক্ষার্থীরা আটকের পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার বিচার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সকালে ও দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবীর সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে বিকেল থেকে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করেন। সভাগুলোতে বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, আবাসিক হলের প্রভোস্ট, ছাত্রবিষয়ক পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইমাম হাসান ও তার স্ত্রী রুপা মণির বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নিরূপণে হল প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচালিত হল ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে এবং হলের ভেতরে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অপরাজিতা ও বিজয় '২৪ ছাত্রী হলের ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য নতুন ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি এই দুই ছাত্রী হলের ক্যান্টিনে কোনো পুরুষ কর্মী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবির আলোকে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ পুনর্বিবেচনার বিষয়ে রিভিউ আবেদন পাওয়া গেলে পুনরায় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষক অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি এবং যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কেন্দ্রের পৃথক দুটি তদন্ত চলমান রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা সভায় তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ছাড়া চলতি টার্মের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা জরিমানা ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এরপর ৫ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত জরিমানাসহ রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
