বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, (খুলনা)
এস এম শাহরিয়ার
খুলনায় গুলিবিদ্ধের ঘটনায় মিলল অস্ত্রের ভাণ্ডার, ৩ জন পুলিশের হেফাজতে
খুলনা নগরীর টুটপাড়া দারোগাপাড়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার একটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে একটি ভাড়া বাসা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি, কয়েকটি ম্যাগাজিনসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দারোগাপাড়ার মহিউদ্দিন সড়কে কেএম ইমতিয়াজ আলীর বাড়ির দোতলার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন খান কুব্বাত আলী, তাঁর স্ত্রী শামসুন্নাহার জলি এবং ছেলে কেএম আবিদ হাসান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে টুটপাড়া এলাকায় তেরখাদা উপজেলার দুলু শেখের ছেলে মাসুদ শেখ গুলিবিদ্ধ হন। গলায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে খুলনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটির তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, তেরখাদার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাসুদ শেখ ও তাঁর পরিচিত টুকু অস্ত্র ভাড়া নেওয়ার উদ্দেশ্যে কুব্বাত আলীর বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে একটি পিস্তল ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করার সময় অসাবধানতাবশত গুলি বের হয়ে মাসুদের গলায় লাগে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
আহত মাসুদকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কুব্বাত আলী সেখান থেকে চলে যান। পরে তিনি ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন তথ্য পেয়ে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। তাঁর দেওয়া তথ্য এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দারোগাপাড়ার ভাড়া বাসাটিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের শুরুতে বাসার ডাইনিং রুমের একটি চেয়ার থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে আরও দুটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি ও কয়েকটি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়।
পুলিশের দাবি, পরবর্তী তল্লাশিতে দুটি চাইনিজ কুড়াল, দেশীয় রামদা ও চাপাতি, লোহার রড, কাঠের বাটযুক্ত ছোরা এবং একটি ইলেকট্রিক শক স্টান গানসহ আরও কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও বিদেশি মুদ্রাও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলোর মধ্যে বিদেশি পিস্তল ও গুলির পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্রও রয়েছে। এসব অস্ত্র কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এগুলো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
খুলনা থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুব্বাত আলীর ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তথ্য জানতে তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাসুদ শেখ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। পরে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে এসব অস্ত্রের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড চাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বলছে, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধ বা সংঘবদ্ধ চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তাও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
