সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের


 

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 

জুয়েল ইসলাম শান্ত

‘রাজনীতি মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়, বিভেদ তৈরি করে’

সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের।

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন রাজনীতি মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়, বিভেদ তৈরি করে ও বিভাজন সৃষ্টি করে। কিন্তু আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে সেই বিভাজন দেখতে চাই না। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু মানুষে মানুষে সম্পর্ক ও সম্প্রীতি অটুট থাকবে। রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতিতে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। “শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে, পড়ুক ঝরে তোমারি সুরটি আমার মুখের ’পরে বুকের ’পরে” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী-কর্মীরা অংশ নেন।


মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় ছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা একসঙ্গে বসে চা খেতেন, গল্প করতেন। রাজনৈতিক মঞ্চে গিয়ে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও সামাজিক সম্পর্ক অটুট থাকত। সেই সম্প্রীতির সমাজই আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে নাটক, সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলা তরুণদের সৃজনশীল ও মানবিক করে তোলে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে। যখন ছেলেমেয়েরা মাঠে খেলাধুলা করে, নাটক করে কিংবা সাংস্কৃতিক অনুশীলনে ব্যস্ত থাকে, তখন সেখানে মাদকের কোনো স্থান থাকে না।


সাংস্কৃতিকর্মীদেরও পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, অনেক নাট্যকর্মী ও শিল্পী রয়েছেন যারা নিষ্ঠার সঙ্গে সাংস্কৃতি চর্চা করলেও আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করেন। তাদের সহযোগিতা করা এবং শিল্প-সাংস্কৃতির বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার তাগিদ জানান তিনি। 


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নতুন কুঁড়ি ও যে সাংস্কৃতিক চর্চার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার চর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 


অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী, নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সমাজে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মনোতোষ কুমার দে, ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতির সভাপতি ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী সহ অনেকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন