রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিতপেশাদারিত্ব, সততা ও জনবান্ধব আচরণের আহ্বান পুলিশ কমিশনারের


 

রংপুর সদর উপজেলা প্রতিনিধি

শাহারিয়ার হাসান সাজিদ 

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত পেশাদারিত্ব, সততা ও জনবান্ধব আচরণের আহ্বান পুলিশ কমিশনারের

রংপুর, ২৩ মে ২০২৬ঃ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে শনিবার সকালে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বাহিনীর সকল সদস্যকে পেশাদারিত্ব, সততা ও জনসেবামূলক মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব নরেশ চাকমা, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) জনাব মো. হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) জনাব মো. মাহফুজুর রহমান, ডিসি (ডিবি) জনাব সনাতন চক্রবর্তী এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব মারুফ আহমেদ। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা সভায় অংশ নেন।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভার শুরুতে গত মাসিক কল্যাণ সভার কার্যবিবরণী পাঠ করা হয় এবং গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পরে বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যরা তাঁদের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত কার্যক্রম, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা এবং সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সভায় পুলিশ কমিশনার সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং উপস্থাপিত সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। যেসব বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি সম্ভব নয়, সেগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।পুলিশ কমিশনার বলেন, বর্তমান সময়ে পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনগণের আস্থা অর্জন, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জনগণ পুলিশের কাছ থেকে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করে। সেই প্রত্যাশা পূরণে প্রতিটি সদস্যকে আরও বেশি পেশাদার, সৎ ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অসদাচরণের সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনয়ী ও সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় মাদক, কিশোর গ্যাং, সাইবার অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেন পুলিশ কমিশনার। পাশাপাশি নিয়মিত টহল, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং কমিউনিটি পুলিশিং বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবনেও শৃঙ্খলা, সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সেবক হিসেবে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভাবমূর্তি আরও সমুন্নত হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন