কাউনিয়ায় তিস্তার চরে তলিয়েগেছে বাদাম, চরম বিপাকে কৃষকরা


 

কাউনিয়া,রংপুর প্রতিনিধি

মোঃইব্রাহিম খলিল 

কাউনিয়ায় তিস্তার চরে তলিয়েগেছে বাদাম, চরম বিপাকে কৃষকরা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি।

 তিস্তা নদী ও তৎসংলগ্ন গ্রাম গুলোতে টানাবৃষ্টি ও উজানের পানিতে কাউনিয়াসহ নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাদাম চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। এবছর আগাম বন্যায় তিস্তাপারের শতশত হেক্টর জমির বাদাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 


তিস্তার পানিতে ভেসে গেছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। অপরিপক্ক বাদাম ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন। কৃষকরা অপরিপক্ক বাদাম গাছ তুলে গরু-ছাগলকে খাওয়াচ্ছেন।


সরেজমিনে তিস্তাপাড়ের গ্রাম গুলো ঘুরে দেখা গেছে এবছর মে মাসেই তিস্তায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে তিস্তার বিস্তৃন্ন চরাঞ্চলের বাদাম খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ক্ষেত থেকে গাছসহ বাদাম তুলে নৌকায় করে নিয়ে আসছেন। পরে গাছ থেকে অপরিপক্ব বাদাম ছাড়িয়ে রাস্তার পাশে পলিথিন বিছিয়ে স্তুপ করে রাখছেন।


এমতাবস্থায় বাদাম চাষি কৃষক’রা চরম শংকিত হয়ে পড়েছেন- কি ভাবে তারা ধার, দেনা ও ঋণ পরিশোধ করবেন। ইতোমধ্যেই এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীরা কৃষকদের সতর্ক করে বলেছেন, ফসল তলিয়ে যাক, ঢুবেযাক তা তাদের দেখার বিষয় নয়, তাদের কিস্তি দিতে হবে।


তিস্তা পাড়ের চাষি আনারুল জানান, ধার-দেনা আর লাভের স্বপ্ন নিয়ে চাষ করা বাদামসহ রবিশস্য এখন পানির নিচে। তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় চরজুড়ে বাদাম, পাট, ভুট্টা, কাউন, মরিচ, শাকসবজি—সব রবিশস্য তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক বৃষ্টিতে ভিজে কাঁচা বাদাম তুলে ঘরে ফিরছেন হতাশ হয়ে। চোখের সামনে ফসল তলিয়ে যেতে দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি অনেক কৃষক।


ইউপি সদস্য শাহআলম জানান, উজানের ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে কাউনিয়ার ১৭টি চরাঞ্চলে। ইতোমধ্যেই গদাই, পাঞ্জরভাঙ্গা, ঢুষমারা চর, তালুক সাহাবাজ, হয়বৎ খাঁ ও আজম খাঁ চরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাদাম চাষিরা। চরের কৃষকরা নৌকা নিয়ে জমি থেকে বাদাম তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।


উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে তিস্তার চরাঞ্চলসহচলতি মৌসুমে ৭৮৫ হেক্ট জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ১৯৯৫ মেঃটন।

বাদাম চাষি আনারুল ইসলাম বলেন, পানি বাড়ায় তাদের বাদাম খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এক-তৃতীয়াংশ বাদাম তুলতে পেরেছি, বাকি বাদাম তিস্তার পানিতে ডুবে গেছে। চরের চাষিরা ক্ষতি পোষাতে সরকারের সহায়তা কামনা করছেন। তিস্তা পাড়ের মানুষ তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরের অনেক বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না।

 এখনও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন