রাজশাহী ব্যুরো
অপু দাস
রাজশাহীতে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট স্থাপনে আগ্রহ জাপানি ব্যবসায়ীদের
রাজশাহী নগরীতে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং তাদের জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানের একদল ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন তারা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে নগর ভবনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দপ্তরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে রাজশাহীতে জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং বিভিন্ন কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, রাজশাহীতে জাপানি ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা গেলে এখানকার তরুণ-তরুণীদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে তাদের জাপানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়ে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তারা রাজশাহীতে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে রাজশাহীর যুবসমাজকে জাপানে বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন।
জবাবে রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহীতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের আওতায় এনে দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা গেলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নগরীর আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রচলিত আইন-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় রাজশাহী ও জাপানের মধ্যে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবসম্পদ তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলে তাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জাপানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিটেক কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের শিনিচি মারুমায়া এবং জেনকির প্রতিনিধি মি. বান্নু। এছাড়া বৈঠকে প্রফেসর মঞ্জুর রহমান, প্রফেসর এসএমএ হোরাইরা, মো. ফজলে তাহের বকুল, অ্যাডভোকেট মো. মেহেদীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগমসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজশাহীতে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করা গেলে নগরীর শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাপানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে তেমনি বৈধভাবে দক্ষ কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে জাপানি ভাষা শিক্ষা, কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাপানে কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে একটি ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন, প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
