উপজেলা প্রতিনিধি, কাউনিয়া
মোঃ ইব্রাহিম
বয়স মাত্র ১৭ বছর। যে বয়সে একটি মেয়ের স্বপ্ন দেখার কথা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার, সেই বয়সেই অসুস্থ হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন মৌসুমি আক্তার। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে দিন কাটছে তাঁর অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণায়। চোখে-মুখে এখন একটাই আকুতি—“আমি বাঁচতে চাই, আমাকে চিকিৎসা করিয়ে বাঁচান।”
মৌসুমি আক্তার রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিজদর্পা গ্রামের দিনমজুর মাসুদার রহমানের মেয়ে। চার বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। পরিবারের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। অন্যের জমিতে বসবাস করে কোনো রকমে সংসার চালায় পরিবারটি। বাবা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে ছয় সদস্যের সংসারের খাবার জোগাড় করাই কঠিন। সেখানে মেয়ের চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা তাঁর পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে গঙ্গাচড়া উপজেলায় মৌসুমির বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় আট মাস পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পান তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ কষ্টের জীবন।
মেয়ের চিকিৎসার জন্য দিনমজুর বাবা নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় মানুষের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা পেয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একপর্যায়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। এখন মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো আর কোনো সামর্থ্য নেই তাঁর।
পরিবারের অভিযোগ, মৌসুমি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনও তেমন খোঁজখবর রাখেননি। ফলে অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন তাঁর বাবা-মা।
বর্তমানে প্রায় এক মাস ধরে নানার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন মৌসুমি। তাঁর নানাও একজন দিনমজুর। নাতনির চিকিৎসার খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য তাঁরও নেই। ফলে একদিকে অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার অর্থের অভাব—দুইয়ের মাঝে আটকে আছে ১৭ বছরের এই তরুণীর জীবন।
পরিবারের দাবি, মৌসুমির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বর্তমানে বিছানায় কাতরাচ্ছেন তিনি।
মৌসুমির পরিবার সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, বিত্তবান মানুষ, সামাজিক সংগঠন এবং দেশ-বিদেশে থাকা সহৃদয় মানুষের কাছে তাঁর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
সহযোগিতা ও যোগাযোগ
মৌসুমির পরিবারের পক্ষ থেকে:
মোবাইল: 01926152039
নগদ, বিকাশ ও রকেট (পার্সোনাল):
মোস্তাফিজুর (মৌসুমির চাচা)
মোবাইল: 01723508709
মৌসুমির পরিবারের আকুতি—অর্থের অভাবে যেন একটি তরুণ প্রাণের চিকিৎসা থেমে না যায়।
