বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ খুলনাএস এম শাহরিয়ার
খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর জন্য ১৭০ হাট, প্রস্তুত ১৪২ ভেটেরিনারি টিম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এবার ১৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকার খামারিরা কোরবানির পশু নিয়ে হাটমুখী হতে শুরু করেছেন।
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এসব পশুর হাট পরিচালনা করবে। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত হাটগুলো চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিভাগীয় তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় সবচেয়ে বেশি ২৭টি পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে জোরাগেট পশুর হাট অন্যতম। এছাড়া বাগেরহাটে ২৯টি, সাতক্ষীরায় ১৬টি, যশোরে ২০টি, ঝিনাইদহে ২২টি, মাগুরায় ১৫টি, নড়াইলে ১০টি, কুষ্টিয়ায় ১৭টি, চুয়াডাঙ্গায় ৮টি এবং মেহেরপুরে ৬টি হাট স্থাপন করা হচ্ছে।
খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার জানান, বিভাগের ৫৯টি উপজেলাসহ কেসিসি এলাকাতেও পশুর হাট বসানো হয়েছে। হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১৪২টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, এ বছর বিভাগের কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় পুরোপুরি স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশন পরিচালিত জোরাগেট পশুর হাটে নিরাপত্তা ও লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সেখানে সিসিটিভি নজরদারি, মেডিকেল টিম ও জাল নোট শনাক্তকরণ সেবা রাখা হবে।
খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় এ বছর কোরবানির পশুর বাজারে দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। ডুমুরিয়ার বালিয়াখালী গ্রামের খামারি নজরুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় খরচ অনেক বেড়েছে। একই উপজেলার টিপনা গ্রামের খামারি মিন্টু খান বলেন, তিনি এবার ১৮টি গরু ও ২৬টি ছাগল প্রস্তুত করেছেন এবং ভালো লাভের আশা করছেন।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার। বিপরীতে খামারিরা প্রস্তুত করেছেন প্রায় ১৪ লাখ ৪৭ হাজার পশু, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬১টি গরু, ৪ হাজার ৮৯টি মহিষ, ৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৭০টি ছাগল, ৫১ হাজার ১৭৩টি ভেড়া এবং অন্যান্য ২১৬টি প্রাণী।
গত বছর খুলনা বিভাগে ১৬৯টি পশুর হাট বসেছিল। সে সময় ১৫২টি ভেটেরিনারি টিম দায়িত্ব পালন করে এবং ঈদের আগেই ১১ লাখের বেশি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছিল বলে প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে।
