গোদাগাড়ীতে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ, তদন্তের দাবি


 

ব্যুরো প্রধানঃরাজশাহী

অপু দাস

গোদাগাড়ীতে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল রানা এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগীর জামাতা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৩ মে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে সাদা পোশাকে এসআই জুয়েল রানা ও এএসআই মজনু মিয়া গোদাগাড়ী পৌরসভার বেলতলা মহল্লায় বাবুল আখতারের বাড়িতে যান। সেখানে তারা বাবুল আখতারকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান। অভিযোগ রয়েছে, এনআইডি দিতে না পারলে জোরপূর্বক মোবাইলে ছবি তোলা হয় এবং দ্রুত থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করার জন্য বলা হয়। এতে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাবুল আখতার একজন শ্রমজীবী মানুষ এবং ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদারি করেন। তিনি এলাকায় নিয়মিত থাকেন না এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি নেই। পরিবারের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে হয়রানি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা থানার ওসি আতিকুর রহমানের অনুমতি ছাড়াই বাড়িতে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এসআই জুয়েল রানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি থানায় গিয়ে সরাসরি কথা বলার পরামর্শ দেন। এ সংক্রান্ত ফোনালাপের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় মাদক উদ্ধারের নামে সাজানো ঘটনা ঘটিয়ে ক্ষতি করা হতে পারে। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এএসআই মজনু মিয়া বলেন, তিনি এসআই জুয়েল রানার সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা দাবি করেননি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এসআই জুয়েল বা ওসির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য কাউকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এসআই জুয়েল কেন এমন করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং তালিকাভুক্ত কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে প্রচলিত নিয়মের বাইরে কাউকে থানায় ডাকার বিষয়ে তার কোনো নির্দেশনা নেই।

এদিকে, ঘটনার পর ওসি সংশ্লিষ্ট এএসআইকে ডেকে সতর্ক করেছেন বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে এসআই জুয়েল রানা দাবি করেছেন, ওসির নির্দেশেই সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে থানায় ডাকার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তিনি কারও কাছ থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা নেননি।

কোন মন্তব্য নেই: