৭৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ বাতিল ও আজীবন বহিষ্কার

 


মোঃ সিয়ামুর রশিদ, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে গত মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ২৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া রয়েছেন ছাত্রশিবিরের একজন নেতা, বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং চারজন বর্তমান কর্মকর্তা।


শাস্তিপ্রাপ্তদের ব্যাচ ও অভিযোগের ধরন


তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ থেকে ২২তম ব্যাচের। তাঁদের অনেকেই ইতোমধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে:


‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ৪১ জন।

তাঁদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা, মারধর, অস্ত্র বহন ও সরবরাহ, ছাত্রাবাসে অস্ত্র পাওয়া এবং সশস্ত্র মিছিলে অংশগ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই শ্রেণির শাস্তির মধ্যে রয়েছে:


সনদ বাতিল


সনদ স্থগিত


আজীবন বহিষ্কার


রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা দায়েরের সুপারিশ



‘বি’ ক্যাটাগরিতে আছেন ৩৮ জন।

তাঁদের বিরুদ্ধে মূলত আন্দোলনের বিরোধিতা এবং মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই কারণে তাঁদের দুই থেকে তিন বছর মেয়াদে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



সামাজিক প্রতিক্রিয়া


ঘটনার তালিকায় ছাত্রশিবিরের একজন নেতার নাম থাকায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। একপক্ষে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, অন্যপক্ষে অনেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও তদন্তের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এটি প্রয়োজন ছিল।

কোন মন্তব্য নেই: