“এগারো সিন্ধুর প্রভাতীতে বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন: রেলওয়ের শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ”


 মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল

ষ্ট্যাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ 


দেশের অন্যতম জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন “এগারো সিন্ধুর প্রভাতী”-তে নিয়মিতভাবে বিনা টিকিটে যাত্রী ওঠানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সরেজমিনে সেই অভিযোগের বাস্তব প্রমাণ মিলেছে।

আজ সকাল ৬টার দিকে, ঢাকাগামী ট্রেনটি কিশোরগঞ্জ থেকে ছাড়ার মুহূর্তে একজন যাত্রীকে বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠতে দেখা যায়। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং যাত্রীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে ট্রেনের ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি; বরং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি কেন্দ্র করে যাত্রীদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং রেলওয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিনা টিকিটে যাত্রী তোলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক কর্মকর্তার ভাষ্য—“আমরা নিয়মিত মনিটরিং চালাচ্ছি। কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রফিক সাহেব বলেন, “বিনা টিকিটে যাত্রী তোলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাবো।”

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে “এগারো সিন্ধুর প্রভাতী” ট্রেনটি ২০০২ সালের ১৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ট্রেনটিতে শোভন (১২০ টাকা), শোভন চেয়ার (১৪০ টাকা) এবং প্রথম সিট (১৮৫ টাকা) ক্যাটাগরির আসন রয়েছে। অনলাইন টিকিট কাটলে অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হয়।

কিন্তু নিয়মিত যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, বিনা টিকিটে যাত্রী তোলা এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে প্রকৃত টিকিটধারী যাত্রীরা যেমন অসুবিধায় পড়ছেন, তেমনি সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অনিয়ম রোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে সিসিটিভি মনিটরিং, মোবাইল টিমের অভিযান এবং ম্যানেজারদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে যাত্রীসেবা ও রেল ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন