রাজশাহীতে সাংবাদিকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, বাসায় আহত অবস্থায় স্বামী—উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি



 ব্যুরো প্রধানঃ রাজশাহী বিভাগ 

অপু দাস


রাজশাহীতে এক সাংবাদিকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় ওই সাংবাদিককে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় স্বামী-স্ত্রীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত নারীর নাম রওশন আরা (৫৫)। তাঁর স্বামী গোলাম কিবরিয়া কামাল (৬০), যিনি সাংবাদিকতা অঙ্গনে কামাল মালিক নামে পরিচিত। তিনি স্থানীয় দৈনিক রাজশাহী সংবাদ-এর উপসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ডাক বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। দম্পতি রাজশাহী নগরীর হড়গ্রাম বাজার এলাকার একটি তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ঘরের মেঝেতে রওশন আরাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আর বিছানায় গুরুতর আহত অবস্থায় ছিলেন তাঁর স্বামী গোলাম কিবরিয়া কামাল।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রওশন আরার মৃত্যু হয়েছে। তাঁর গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে। অন্যদিকে সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া কামালের হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি এক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য পান করেছিলেন বলে চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দৈনিক রাজশাহী সংবাদ-এর সম্পাদক আহসান হাবীব বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সহকর্মীরা হাসপাতালে যান। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাংবাদিক কামাল মালিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর হাত ও পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে। প্রয়োজনে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হতে পারে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা আলামত সংগ্রহসহ প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ঘটনাটি ঘরের ভেতরেই সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

কোন মন্তব্য নেই: