দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইরানের দিকে টর্পেডো ছুড়লো যুক্তরাষ্ট্র


 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইরানের দিকে টর্পেডো ছুড়ল যুক্তরাষ্ট্র

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে কোনো যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হলো।  শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত মহাসাগরে বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা তলিয়ে গেছে।


পেন্টাগন এখন পর্যন্ত হামলাকারী সাবমেরিনটির নাম প্রকাশ করেনি।  ওই দিন সকালে প্রতিরক্ষা দফতর একটি ভিডিও প্রকাশ করে, সেখানে দেখা যায় ইরানের যুদ্ধজাহাজটির পেছনের অংশে একটি টর্পেডো আঘাত হানছে।  হামলায় যুদ্ধজাহাজটির মূল কাঠামো দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।


শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ৩২ ইরানি নাবিককে উদ্ধার করেছেন।  জাহাজটিতে ১৮০ ক্রু ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ইউএস নেভি হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ কমান্ডের তথ্যমতে, সর্বশেষ ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন সাবমেরিন ইউএসএস টর্স্ক থেকে শত্রুপক্ষের জাহাজে টর্পেডো ছোড়া হয়েছিল।  তখন সেই আঘাতে জাপানের একটি ৭৫০ টনের জাহাজ ডুবে গিয়েছিল।


এরপর থেকে স্নায়ুযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত মার্কিন সাবমেরিনগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সংবেদনশীল গোয়েন্দা মিশনে নিয়োজিত থাকলেও কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে টর্পেডো ব্যবহার করেনি।


তবে ১৯৯১ সালের অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম থেকে শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং গত জুনে ইরানের ইসফাহানে পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলায় সাবমেরিন থেকে নিয়মিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।


জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল কেইন জানান, ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডোবাতে মার্ক-৪৮ হেভিওয়েট টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে।


১৯৭২ সালে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই টর্পেডোটি সময়ের সাথে আধুনিকায়ন করা হয়।  প্রায় ৩,৮০০ পাউন্ড ওজনের এই টর্পেডো লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করে এবং জাহাজের নিচে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়, ফলে জাহাজটি দ্রুত দুই টুকরো হয়ে ডুবে যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন