লালমনিরহাটে ত্রাণের টিন ধনীর ঘরে সমালোচনায় টাকা ও টিন ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা।


  

জেলা প্রতিনিধিঃলালমনিরহাট

আব্দুল মালেক 

লালমনিরহাটে ত্রাণের  টিন ধনীর ঘরে সমালোচনায় টাকা ও টিন ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা। 

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণ আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আলিশান পাকা ভবনের মালিক হয়েও প্রতারণার মাধ্যমে ত্রাণের টিন ও নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির এক নেতাসহ চার সচ্ছল ব্যক্তি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠায় এবং প্রশাসনের কড়া নির্দেশে শেষ পর্যন্ত সেই ত্রাণ ও টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দধি প্রসাদ বর্মণসহ চারজন সম্প্রতি কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দোহাই দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের কাছে ত্রাণের আবেদন করেন। তালিকায় থাকা অন্য তিনজন হলেন—শামসুল হক, গোলাপী রানী ও শংকর কুমার রায়। যাচাই-বাছাই শেষে গত রোববার তাদের প্রত্যেককে এক বান্ডিল করে ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

ত্রাণ পাওয়ার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত দধি প্রসাদ বর্মণের রয়েছে আধুনিক ছাদ পেটানো পাকা ভবন এবং শংকর কুমার রায়ের রয়েছে মজবুত আধা-পাকা বাড়ি। সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও তাদের এমন ত্রাণ গ্রহণ নিয়ে ফেসবুকে ছবিসহ পোস্ট দিলে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তাদের ত্রাণ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ত্রাণ ফেরত দিলেও নিজেদের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন অভিযুক্তরা। বিএনপি নেতা দধি প্রসাদ বর্মণ দাবি করেন, “পাকা বাড়িটি আমার ছেলের, আমার টিনের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আবেদন করেছিলাম।” অন্যদিকে শংকর কুমার রায় ও গোলাপী রানীর স্বামী গোবিন্দ রায় জানান, সমালোচনার মুখেই তারা বরাদ্দকৃত মালামাল ফেরত দিয়েছেন। তাদের দাবি—মানুষ শুধু বাইরের সচ্ছলতা দেখে, ভেতরের অভাব বুঝতে চায় না।

আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, অভিযুক্তরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ত্রাণের টিন ও টাকা অফিসে জমা দিয়েছেন। ভুল স্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন, “ভবিষ্যতে তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাই করে সুবিধাভোগী নির্বাচনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং প্রকৃত দুস্থদের হক যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে জন্য স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।


কোন মন্তব্য নেই: