লাশ নিয়ে ব্যবসা নয়: রাজশাহীতে চালু হচ্ছে সম্পূর্ণ ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা
ব্যুরো প্রধানঃরাজশাহী
অপু দাস
প্রিয়জন হারানোর বেদনাময় মুহূর্তে মানুষের মানসিক অবস্থা থাকে ভেঙে পড়া ও অসহায়। এমন সময় অনেক পরিবারকে বাড়তি চাপের মুখে ফেলতে দেখা যায় লাশ পরিবহনের উচ্চ খরচের কারণে। এই পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে রাজশাহীতে নেওয়া হয়েছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ। “লাশ নিয়ে ব্যবসা নয়”—এই বার্তাকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম রবি।
জানা গেছে, সেবাটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে অ্যাম্বুলেন্স মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে শোকাহত পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে এই সেবা দেওয়া হবে। এতে করে দুঃসময়ে থাকা পরিবারগুলো অন্তত লাশ পরিবহনের খরচ নিয়ে উদ্বেগমুক্ত থাকতে পারবে।
উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম রবি বলেন, প্রিয়জন হারানোর শোকের সময় কোনো পরিবার যেন আর্থিক চাপে আরও বিপর্যস্ত না হয়, সেটিই তার মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাস্তব জীবনে এমন অনেক ঘটনা দেখেছেন যেখানে মানুষ লাশ পরিবহনের খরচ জোগাতে গিয়ে চরম কষ্টের মধ্যে পড়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার মতে, এটি দয়া নয়, বরং সমাজের প্রতি একটি দায়িত্ববোধের প্রকাশ।
অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, প্রতিদিনের কাজের অভিজ্ঞতায় তারা মানুষের অসহায়ত্ব খুব কাছ থেকে দেখেন। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সাধারণ মানুষ যে দুর্ভোগে পড়ে, তা তাদেরও কষ্ট দেয়। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সেবা চালু করতে তারা একমত হয়েছেন। তাদের আশা, এর মাধ্যমে লাশ পরিবহন খাতে অযৌক্তিক ব্যয়ের প্রবণতা কমে আসবে।
এদিকে এই উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের অনেকেই এটিকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবে।
উল্লেখ্য, রফিকুল ইসলাম রবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। পথশিশুদের সহায়তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, ফ্রি ওয়াইফাই জোন স্থাপনসহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে সুনাম অর্জন করেছেন। তার এই নতুন উদ্যোগকেও মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই: