ঘরে-বাইরে যেখানেই থাকুন, সেসব সমস্যায় নিয়মিত পোহাতে হয় নগরবাসীকে।
সংসার চালানোর ব্যয় বৃদ্ধি, সড়কে যানজট-খানাখন্দ, গ্যাস ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, অস্বাস্থ্যকর বায়ু ও পরিবেশ দূষণসহ নানা পরিচিত সমস্যার চক্রেই আটকে রয়েছে ঢাকাবাসী।
এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়, দায়িত্বশীলদের পরিকল্পনা-উদ্যোগের হিড়িক থাকলেও দেখা যায় না কার্যকর সমাধান।
রাজধানীতে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে ২০১১ সালের শেষের দিকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়— তৈরি হয় ঢাকা উত্তর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
নাগরিক সেবা প্রদানে এই দুই সিটি কর্পোরেশন ছাড়াও রয়েছে একাধিক সংস্থা। যেমন— পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ওয়াসা, ভবনের পরিকল্পনা-অনুমোদনসহ নগর পরিকল্পনার দেখভাল করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ডিপিডিসি ও ডেসকো, আর গ্যাস সেবা দিচ্ছে তিতাস।
যানবাহনের দায়িত্বে বিআরটিএ, আবার সড়কের অনেক অংশের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে সওজ।
এছাড়াও বিটিসিএল, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ নানা সংস্থার বহুমুখী কার্যক্রম চলছে এই নগরে। এত সংস্থা, এত পরিকল্পনা-উদ্যোগ থাকলেও টেকসই সমাধান পাচ্ছে না রাজধানীর মানুষ।
প্রতিবেদনটি তৈরি করার সময় অন্তত শতাধিক ব্যক্তির কাছে এনপিবি নিউজ জানতে চেয়েছে— রাজধানীতে বসবাসকারী হিসেবে সম্মুখীন নৈমিত্তিক সমস্যাগুলো কী?
এই প্রশ্নের জবাবে একই ধরনের উত্তর দেওয়াই ছিল স্বাভাবিক, হয়েছেও তাই। তারা বলছেন— রাজধানীতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সড়কে যানজট ও খানাখন্দ, জলাবদ্ধতা, গ্যাস ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, বিশুদ্ধ বায়ুর অভাব— এসব সমস্যা বেড়েই চলেছে।
এছাড়াও চিকিৎসা সেবার ভঙ্গুরতার কথাও বলেন অনেকে। কয়েকজন জানান— সকালে ঘুম থেকে উঠে বিশুদ্ধ পানির সংকট দিয়েই দিন শুরু হয়। পরে অফিসে যেতে হয় যানজট আর খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে। অফিস শেষে বাজারে গেলে দেখতে হয় দ্রব্যমূল্যের চড়া দাম।
রাজধানীতে নাগরিক সেবা বাস্তবায়ন না হওয়ার মূল কারণ দায়িত্বশীলদের সদিচ্ছার অভাব— এমন মন্তব্য করে নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান এনপিবি নিউজকে জানান, নগর বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে এই নগরে সঠিক পরিকল্পনা এবং সেই পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের চিত্র বিরল।
তিনি আরও জানান, দুর্নীতি ও অনিয়মের মতো কারণগুলোও রাজধানী ঢাকাবাসীর ভাগ্যোন্নয়নের অন্তরায়।
