রংপুর বিভাগে মৌচাষ শিল্পে নতুন দিগন্ত—দিনাজপুরে বিভাগীয় মৌচাষী সমিতির নতুন কমিটি গঠন


সিয়ামুর রশিদ, স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুরঃ


রংপুর বিভাগে মৌচাষ শিল্পকে আরও পেশাদার, কারিগরি দক্ষ ও বাজারমুখী করতে নবগঠিত নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা সূচিত হলো। দিনাজপুর বিসিক বাঁশের হাট প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে রংপুর বিভাগীয় মৌচাষী সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।


সকালের দিকে শুরু হওয়া এই সভায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা—দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রংপুর ও লালমনিরহাট থেকে শতাধিক মৌচাষী উপস্থিত ছিলেন। তাদের অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণটি এক প্রাণবন্ত উদ্যোক্তা সমাবেশে রূপ নেয়। আলোচনা সভায় মৌচাষের সম্ভাবনা, বর্তমান বাজার সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির দিকগুলো গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।


নতুন কমিটি (২০২৫–২০২৭)


সভাপতি : জনাব দিল মোহাম্মদ


সহ-সভাপতি : মুকুল হোসেন


সাধারণ সম্পাদক : জনাব মনির হোসেন


সহ-সাধারণ সম্পাদক : জনাব মহিবুর ইসলাম জীবন


সাংগঠনিক সম্পাদক : জনাব সুজন আলী


সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক : জনাব ইউসুফ আলী


ক্যাশিয়ার : জনাব হান্নান হোসেন


দপ্তর সম্পাদক : জনাব এরশাদ হোসেন


প্রচার সম্পাদক : জনাব সাজ্জাদ হোসেন


রাকিব, রিপন, রিফাতসহ তরুণ প্রজন্মের আরও অনেক উদ্যোক্তা উপকমিটির বিভিন্ন দায়িত্ব পেয়েছেন। সমিতির সদস্যরা মনে করছেন—যুবসমাজের সম্পৃক্ততা একটি বড় ইতিবাচক দিক, যা মৌচাষ শিল্পকে নতুন গতিশীলতা দেবে।


 সভায় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য


সভাপতি জনাব দিল মোহাম্মদ বলেন—


> “রংপুর বিভাগে মৌচাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ তথ্যের অভাব, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং পুঁজির ঘাটতির কারণে অনেক উদ্যোক্তা এগোতে পারছেন না। আমরা আগামী দুই বছর বাজারসংযোগ, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা আদায়ে একযোগে কাজ করবো।”


সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন—


> “চলতি মৌসুমে ফুলের কম উৎপাদন এবং আবহাওয়ার বদলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক মৌচাষ প্রযুক্তি ও সমন্বিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেব।”


অনেক মৌচাষী জানান, স্বল্প পুঁজিতেই মধু উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। তবে মানসম্মত সরঞ্জাম, ঋণ সুবিধা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।


ঠাকুরগাঁও থেকে আসা এক তরুণ মৌচাষী রিফাত বলেন—


> “আমাদের এলাকায় অনেক যুবক বেকার। মৌচাষ তাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় পেশা হতে পারে। সমিতি যদি পাশে থাকে, তাহলে আমরা জাতীয় পর্যায়ে ব্র্যান্ড মধু উৎপাদন করতে পারব।”


মৌচাষ শিল্পে সমিতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা


নবগঠিত কমিটি আগামী দুই বছরের জন্য যেসব কার্যক্রম গ্রহণের প্রাথমিক ঘোষণা দিয়েছে—


প্রতিটি জেলায় মৌচাষীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ


আধুনিক ‘মুভিং হাইভ’ প্রযুক্তির ব্যবহার


মানসম্মত মধু সংগ্রহ, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং


সরাসরি বাজারসংযোগ তৈরি (B2B ও অনলাইন মার্কেটিং)


মৌচাষীদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে আলোচনার উদ্যোগ


ফুলের বাগান সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয়


মৌমাছির রোগ প্রতিরোধ ও গবেষণায় সহায়তা


সভায় উপস্থিতরা জানান—এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে রংপুর বিভাগ দেশের অন্যতম বৃহৎ মধু উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত হবে।


সমগ্র অনুষ্ঠান শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অতিথিরা প্রত্যাশা করেন, এই কমিটি মৌচাষ শিল্পকে টেকসই ও বাজারমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কোন মন্তব্য নেই: