ভাষা দিবসে সম্প্রীতির বার্তা : রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের এক



মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজশাহীতে গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রভাতফেরি, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে দিবসটি হয়ে ওঠে তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয়।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। তাঁর সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছু সময় নীরবতা পালন করে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মনোজ কুমার বলেন, বাংলা ভাষা কেবল একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বন্ধন রয়েছে, তা বহু প্রজন্ম ধরে বিকশিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তিনি আরও বলেন, ভাষা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভাষা একটি জাতির পরিচয় ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দিবসটি উপলক্ষে ভোর থেকেই শহীদ মিনার এলাকায় মানুষের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ প্রভাতফেরিতে অংশ নেন। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এদিন নগরীর সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভায় বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধা, স্মরণ ও সম্প্রীতির আবহে রাজশাহীতে পালিত মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ভাষা আন্দোলনের আদর্শকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয় এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করে।

কোন মন্তব্য নেই: