সদ্য নির্বাচনী পরাজয়ের পর নতুন দায়িত্বে, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু
ব্যুরো প্রধান: খুলনা বিভাগ
এস এম শাহরিয়ার,
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। সেখানে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে কেসিসির প্রশাসকের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
যুগ্ম সচিব মাহাবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক অনুযায়ী করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ২০১৪ সালের সংশোধিত আইনের ধারা ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুসারে তারা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং বিধি অনুযায়ী ভাতা পাবেন।
দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকার
শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান এবং একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই হবে তাঁর অগ্রাধিকার।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
দীর্ঘ প্রায় তিন দশক খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন নজরুল ইসলাম। ১৬ বছর সাধারণ সম্পাদক ও ১২ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে জয়লাভ করেন, যদিও সেবার খুলনায় বিএনপি জোট বড় ধরনের ভরাডুবির মুখে পড়ে।
২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন এবং একই বছরের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেও জয় পাননি। সিটি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনও করেন তিনি এবং পরবর্তীতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে পরাজয়ের পর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। দলীয় পদে না থাকা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সমন্বয় ঘাটতি নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে সমালোচনাও ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে প্রশাসক হিসেবে তাঁর নিয়োগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলীয় পটভূমি ও বিতর্ক
২০২১ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত আংশিক কমিটিতে মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি এবং কমিটি পুনর্মূল্যায়নের দাবি তোলেন। পরবর্তীতে কেন্দ্র থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
শুভেচ্ছা ও প্রতিক্রিয়া
প্রশাসক নিয়োগের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানান দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। সদ্য নির্বাচনী পরাজয়ের পর এই দায়িত্বকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন প্রশাসক বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধানে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কোন মন্তব্য নেই: