ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ কেসিসি প্রশাসকের
ব্যুরো প্রধানঃ খুলনা বিভাগ
এস এম শাহরিয়ার,
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সভাপতির বক্তব্য দেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বৈঠকে তিনি ওয়ার্ড অফিসে কর্মকর্তাদের উপস্থিতির নির্ধারিত সময় ও মোবাইল নম্বর নোটিশ বোর্ডে টানানোর নির্দেশ দেন, যাতে নগরবাসী সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
সোমবার বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় প্রশাসক বলেন, দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি ওয়ার্ডের কাজও সামলাতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। ফলে সার্বক্ষণিক অফিসে থাকা সম্ভব হয় না। এতে নাগরিকরা সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়েন। এ পরিস্থিতি দূর করতে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
সভায় তিনি আরও নির্দেশ দেন, উন্নয়নকাজ শেষে নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন সড়কে পড়ে আছে কি না, ওয়ার্ডভিত্তিক সড়কবাতি পর্যাপ্ত আছে কি না এবং নির্ধারিত সময়ে তা জ্বালানো ও নেভানো হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত তদারকি করতে হবে। স্পর্শকাতর এলাকায় বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, সড়কের ওপর পরিত্যক্ত যানবাহন সরানো এবং ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতাদের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া ও বিক্রি শেষে বর্জ্য নিজ দায়িত্বে পরিষ্কারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির নির্দেশও দেন তিনি।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব আরিফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, বাজেট ও অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রশাসক নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি খানজাহান আলী রোডের দক্ষিণ পাশের ড্রেন নির্মাণ, পিটিআই মোড়ের কালভার্ট, খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজের একাডেমিক ভবন সংস্কার, রূপসা ঘাটের পাম্প হাউজের স্থান, ২ নম্বর কাস্টম ঘাটের নির্মাণাধীন স্লুইচ গেট এবং রয়্যাল চত্বর এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সকালে নগর ভবনে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা পরিদর্শন করেন প্রশাসক। দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবামুখী মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
বিকাল ৪টায় নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মোল্লাপাড়া এলাকার সুমন গলিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি পরিদর্শন করেন প্রশাসক। পরে তিনি নিজ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

কোন মন্তব্য নেই: