রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিলেন ২০৪ জন বন্দী
ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী বিভাগ
অপু দাস,
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা বন্দীদের মধ্যে ২০৪ জন বন্দী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। কারাগারে বর্তমানে হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে মোট বন্দীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ হলেও ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন মাত্র ২৭৩ জন।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে থাকা বন্দীদের প্রায় অর্ধেক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি এবং বাকি অর্ধেক বিচারাধীন হাজতি। দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা অনেক বন্দীর ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এদিকে কারাগারে ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করতে অনেকে আগ্রহ দেখাননি বলে জানিয়েছে কারাগার প্রশাসন। কারা কর্মকর্তারা বলছেন, কারাগারে নাম নিবন্ধন করলে পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া যাবে না—এমন আশঙ্কা বা বিভ্রান্তি থেকেও অনেকে নিবন্ধন করেননি। এ কারণেই মোট বন্দীর সংখ্যা তুলনায় ভোটার নিবন্ধনকারীর সংখ্যা অনেক কম ছিল।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত ২৭৩ জন বন্দীর মধ্যে ২০৪ জনের ব্যালট যাচাই-বাছাই শেষে ভোটের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরে তাদের ব্যালট কাগজপত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় পোস্ট অফিসে পাঠানো হয়।
তবে নিবন্ধনের পর ৩২ জন বন্দী জামিনে মুক্তি পাওয়ায় তারা কারাগারে থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।
এদিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ এবং রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক বন্দী রয়েছেন। তবে তারা ভোট দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন না করায় পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেননি।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন,
“যেসব বন্দী ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তাদের জন্য আমরা নাম নিবন্ধনের ব্যবস্থা রেখেছিলাম। যারা নাম লেখাননি তাদের কোনোভাবে বাধ্য করা হয়নি। ভোট দেওয়া বন্দীদের ব্যালট যথাযথ প্রক্রিয়ায় পোস্ট অফিসে পাঠানো হয়েছে।”
কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বন্দীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আগ্রহী বন্দীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কারাগার প্রশাসন।
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: