খুলনা-৫ আসনে মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াত


 
ব্যুরো প্রধানঃ খুলনা বিভাগ 

এস এম শাহরিয়ার,


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় নির্বাচনী তৎপরতা জোরদার হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত খুলনা-৫ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, খুলনা-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ জন। এর মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলায় আনুমানিক ৩ লাখ ৩ হাজার ভোটার রয়েছে। লিঙ্গভিত্তিক হিসাবে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৫৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ৪৪৩ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন একজন। মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ডুমুরিয়ায় ১০৮টি এবং ফুলতলায় ৪২টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

শহর ও গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত এই আসনে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে তারা সৎ, যোগ্য ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রতিনিধি প্রত্যাশা করছেন। স্থানীয়দের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ডুমুরিয়া ও ফুলতলার জলাবদ্ধতা নিরসন, ডুমুরিয়া পৌরসভা বাস্তবায়ন, সড়ক ও খাল সংস্কার, বেকার যুবক ও নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন, আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণ, মাদকমুক্ত সমাজ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের দাবিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগার লবি, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সিপিবির প্রার্থী অ্যাডভোকেট চিত্তরঞ্জন গোলদার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আরা পারভীন ইয়াসমিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থীকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচিত হলে সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি সদর হাসপাতাল আধুনিকায়ন, দক্ষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাদক নির্মূল এবং কৃষকদের ন্যায্য সার ও ফসলের দাম নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি সবজি সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগার লবি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চনার কারণে এ এলাকার মানুষের প্রত্যাশা তুলনামূলকভাবে বেশি। তিনি জানান, নির্বাচিত হলে ডুমুরিয়া-ফুলতলার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। এবারের নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভয়ভীতি, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকি, কালো টাকা বিতরণ এবং সাইবার হামলার অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, অন্তত ৫০টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং এসব কেন্দ্র নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী নির্বাচন কমিশনার সাবিতা সরকার জানান, সব ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।

সব মিলিয়ে খুলনা-৫ আসনে ভোটের মাঠ এখন উত্তপ্ত। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের মুখোমুখি লড়াই ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ও আলোচনা বাড়ছে।ন

কোন মন্তব্য নেই: